| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো…’ a – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো মিসর ভ্রমণকালে মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ যোগাড় করতেন। যে কুঁড়ে, আলসে, ঘুষখোর ও চোর, সেই হীন। ব্যাবসা বা ছোট স্বাধীন কাজে মানুষ হীন হয় না- হীন হয় মিথ্যা চতুরতা ও প্রবঞ্চনায়। পাছে জাত যায়, সম্মান নষ্ট হয়- এই ভয়ে পরের গলগ্রহ হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছ? সম্মান কোথায়, তা তুমি টের পাওনি? সৎ উপায়ে যে পয়সা উপায় করা যায় তাতে তোমার আত্মার পতন হবে না। তোমার আত্মার পতন হবে আলস্যে ও অসাধুতায়। তোমারই স্পর্শে কাজ গৌরবময় হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়।
➤ সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।"- এখানে সংসারের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের কথা বলা হয়েছে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু তার চারপাশের ঝগড়াঝাঁটি, কর্মকান্ড ইত্যাদি নিয়ে তেমন কিছুই ভাবে না। কারণ তার কাছে মনে হয় এসব সংসারের স্বাভাবিক বিষয়। সে মনে করে রাগ, ক্ষোভ, হাসিখুশি মনের ভাব, আসমান, টাঙনের স্রোত প্রভৃতি সবকিছুই একটার সঙ্গে আরেকটা শেষ পর্যন্ত একসূত্রে গাঁথা। প্রকৃতপক্ষে কপিলদাস মুর্মুর মনে করে যে সংসারের সবকিছুর ওপর দিয়ে একটি শান্ত স্রোত বয়ে চলছে আর সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।
সারকথা: সংসারের অনেক ভেতর দিয়ে কাঁপনহীন, উত্তেজনাহীন, চিৎকারহীন এক শান্ত, ধীর ও নিরবচ্ছিন্ন স্রোতধারা বহমান
➤ উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সকল ভয় ও দ্বিধাকে পেছনে ফেলে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ আলস্য, মিথ্যা, চতুরতা, প্রবঞ্চনা, অসাধুতা কখনো মানুষকে মর্যাদার আসনে বসায় না। এগুলো পরিহার করে মানুষ যখন আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারবে তখনই কেবল সে হয়ে উঠবে মর্যাদাবান।
➤ উদ্দীপকে কাজ বা শ্রমের গুরুত্ব নির্দেশিত হয়েছে। এখানে ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো যে একসময় মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ জোগাড় করতেন তা তুলে ধরা হয়েছে। আত্মসম্মানের ভয়ে অন্যের গলগ্রহ হয়ে না থেকে আত্মাকে চিনে আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারলে অসাধ্যকে সাধন করা যায়। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস বুড়োর চেতনায় এই আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার দিকটি লক্ষ করা যায়। যখন ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তখন সে তার কাজ সম্পর্কে সজাগ হয়। সাঁওতাল তরুণরা ভয় ও দ্বিধার মধ্যে থাকলেও সে ভয় পায়নি। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া কপিলদাস আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে, তরুণদের ভয় ও দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকটি গল্পের কপিলদাসের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকে প্রতিফলিত কাজের গুরুত্বের দিকটি আলোচ্য গল্পে কপিলদাসের চেতনায় ফুটে উঠেছে।
➤ না, উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়।
➤ জীবনে ভালো কিছু করতে চাইলে নিজের মানসিকতায় স্বচ্ছ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। কোনো কাজকেই তুচ্ছ না ভেবে আলস্য পরিহার করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়।
➤ উদ্দীপকে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শ্রমের মর্যাদার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জাত ও সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে যারা অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকে তারাই মূলত সম্মান হারায়। আত্মবিশ্বাস ও চেতনা নিয়ে এগিয়ে গেলে যেকোনো কাজেই সফল হওয়া যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজকে গৌরবময় করার দিকটি আমি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর মধ্যে পাই। বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় সবাই ভীত ও দ্বিধান্বিত হলেও কপিলদাস একাই জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। সে নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার মতো দূরবস্থা অনুধাবন করে সচেতন হয়ে ওঠে। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, অন্য সবার কাছে গুরুত্বহীন এই কপিলদাস মুর্মু একাই প্রতিবাদ করে। গল্পের এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়।
সারকথা: 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভাব ব প্রতিফলিত হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে ওঠেনি।