| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জাহিন উচ্চ মাধ্যমিকের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জাহিন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। সে তার পাঠ্যবিষয় হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বেছে নিয়েছে। যার প্রথমটি রাষ্ট্রে একজন নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির কার্যাবলি ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করে, আর অন্যটি শিক্ষা দেয় কীভাবে একজন নাগরিক আয় ও ব্যয়ের সঠিক জ্ঞান লাভের মাধ্যমে জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে
স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আমি একজন স্থানীয় নাগরিক।
স্থানীয়ভাবে ব্যক্তির নাগরিক জীবন শুরু হয়। এভাবে বসবাস করতে গিয়ে নাগরিকের সঙ্গে কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিক কতগুলো সেবা গ্রহণ করে এবং এই সেবার বিনিময়ে কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা নাগরিক সনদ, জন্মসনদসহ
বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করি।
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিষয়টি হচ্ছে পৌরনীতি ও সুশাসন, বর্তমান সময়ে এ বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
পৌরনীতি হচ্ছে সেই শাস্ত্র যা নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান ও আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে। সুনাগরিক হিসেবে সুসংহত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন লাভ করতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা সর্বাগ্রে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম বিষয়টি নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির কার্যাবলি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করে। এটি মূলত পৌরনীতি। এটি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়। অতীতে নাগরিক জীবনের সূত্রপাত, তখন নাগরিকতার স্বরূপ, বর্তমান আধুনিক যুগে নাগরিকতার ধরন, নাগরিকতা অর্জন ও বিলুপ্তির পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে নাগরিকের আচরণ ও কার্যাবলি কেমন হবে ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যাবে। সুনাগরিক হওয়ার জন্য পৌরনীতি নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগে সচেতন করে তোলে। এ সচেতনতার ফলে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়।
নিজেদেরকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা থাকা প্রয়োজন। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সুতরাং একথা বলা যায়, উত্তম নাগরিক জীবন গঠন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি বজায় রাখার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা আবশ্যক। সুস্থ সুন্দর রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে এবং সুনাগরিকতার শিক্ষা অর্জনে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি বিষয় দুটি পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। উভয়েই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। পৌরনীতি ও সুশাসনকে বলা হয় নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান আর অর্থনীতিকে বলা হয় অর্থনীতি বিষয়ক বিজ্ঞান। এদুটি বিষয় গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য, আচরণ, প্রত্যাশা প্রভৃতি নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে। আর অর্থনীতি নাগরিকের কল্যাণে অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। উভয়ের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন করা।
তাছাড়া প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক দিক রয়েছে। তাই রাজনীতিবিদদের অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং অর্থনীতিবিদদের রাজনৈতিক জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়। সমাজসেবা, সমবায়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সম্পদ বণ্টন, উৎপাদন ইত্যাদি বিষয়গুলো পৌরনীতি ও অর্থনীতি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে। আবার পৌরনীতি ও সুশাসন একজন নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। অন্যদিকে অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভাব ও চাহিদার মাঝে সুসামঞ্জস্য বিধান করে সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এভাবে এ দুটি বিষয় নাগরিক জীবনকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের স্থায়িত্ব, সমৃদ্ধি, বিবর্তন সে দেশের অর্থনৈতিক সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ও অবনতি সমানভাবে সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বস্তুত পৌরনীতি ও সুশাসন আর অর্থনীতির শিক্ষা অর্থনীতির ভীত মজবুত করে গণতন্ত্র বিকাশের সাথে সাথে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলো নাগরিকের সার্বিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সমবায় আন্দোলন, কর্মসস্থান, মজুরি, খাজনা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজগুলো রাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এদিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি পরস্পর সংযুক্ত দুটি বিষয়।