A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (7 hours ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘জামাল সাহেব একজন…’ সিলেট বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📘 ২য় অধ্যায় : ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়🔢 সৃজনশীল নম্বর: ৬৩🏫 বোর্ড: সিলেট শিক্ষা বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ⭐⭐⭐⭐⭐

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

জামাল সাহেব একজন নামকরা পির। দেশের সারা অঞ্চলে তার মুরিদ আছে। পানি পড়া, তাবিজ দেওয়া, জিনের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন তিনি। এভাবেই মুরিদদের কাছ থেকে অর্থকড়ি আয় করেন। পিরের একমাত্র ছেলে আরিফ এসব পছন্দ করে না। সে চায় লেখাপড়া করে সে ডাক্তার হবে। মানুষের চিকিৎসাসহ নানা রকম সেবা করবে। পরিবারের সবাই চায় আরিফ তার বাবার পেশা চালিয়ে যাক।

উত্তর:

সূর্যাস্ত আইনে হাতেম আলির জমিদারি নিলামে ওঠেছে।

উত্তর:

‘বিয়ে হলো তকদিরের কথা।’- জমিদারের স্ত্রী খোদেজার এ বক্তব্যে সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বজরায় আশ্রয়দাতা তার পালিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে তাহেরা বলে যে, এক বুড়ো মানুষের সাথে তার বিয়ে হওয়ায় সে পালিয়ে এসেছে। তখন খোদেজা তাহেরাকে বোঝানোর জন্য বলে যে, তোমার বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা উচিত হয়নি। কারণ ‘বিয়ে হলো তকদিরের কথা’ অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের কোনো হাত নেই। মূলত খোদেজার এ বক্তব্যে তৎকালীন নারীর সবকিছু মেনে নেওয়ার প্রবণতাই ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

উদ্দীপকের জামালের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর চরিত্রের মিল আছে।

‘বহিপীর’ নাটকটি একজন পিরকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। এই পির সারাবছর বিভিন্ন জেলায় তার অনুসারীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেন। আর মুরিদরাও সর্বস্ব দিয়ে তার সেবাযত্ন ও খাতির করে।

উদ্দীপকে জামাল সাহেব নামের এক পিরের কথা বর্ণিত হয়েছে। দেশের সারা অঞ্চলে তার মুরিদ রয়েছে। পানি পড়া, তাবিজ দেয়া, জ্বিনের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন তিনি। যার মাধ্যমে নিজের প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভ আদায় করেন তিনি। একইভাবে, ‘বহিপীর’ নাটকের পির সাহেবের মুরিদদের কুসংস্কার ও অন্ধভক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিত্তবান হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, মুরিদের অল্পবয়েসি কন্যা তাহেরাকে কৌশলে বিয়ে করেন তিনি। আবার তাহেরা পালিয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্যও ফন্দি আঁটেন। অর্থাৎ নাটকের বহিপীর এবং উদ্দীপকের পির সাহেব ধূর্ত ও স্বার্থান্বেষী চরিত্র। এদিক থেকে তাদের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

উত্তর:

"বর্ণনায় বৈচিত্র থাকলেও উদ্দীপকের আরিফ এবং ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম উভয়ের ভাবনা একই ধারায় উৎসারিত।"- উক্তিটি যৌক্তিক।

‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর মূলত একজন ধূর্ত ও স্বার্থান্ধ প্রকৃতির মানুষ। চৌদ্দ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। তারপর কৌশলে তারই এক মুরিদের অল্পবয়েসি মেয়ে তাহেরাকে বিয়ে করার ফাঁদ পাতে সে। তার ফাঁদে পা দিয়েই তাহেরার বাবা-মা তাকে ওই পিরের সাথে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এই অসম বিয়ের হাত থেকে বাঁচতে তাহেরা পালিয়ে গিয়ে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নিলে জমিদারপুত্র হাশেম আলি তার পাশে দাঁড়ায় এবং তাহেরাকে বাঁচাতে সে তাকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।

উদ্দীপকে আরিফ নামের এক প্রতিবাদি যুবকের কথা বলা হয়েছে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত আরিফ অযৌক্তিক পিরপ্রথায় বিশ্বাসী নয়। সে চায় লেখাপড়া করে বড়ো ডাক্তার হবে। মানুষের চিকিৎসাসহ নানা রকম সেবা করবে। তাই সে বাবার প্রতারণাকে মেনে নিতে পারে না। আলোচ্য নাটকের হাশেম আলিও তেমনই একজন শিক্ষিত ও প্রগতিশীল যুবক।

‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম চরিত্র হাশেম আলি। উদ্দীপকের আরিফের মতো সেও একজন প্রতিবাদী চরিত্র। হাশেম আলি জমিদার পুত্র। সে অত্যন্ত যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ। তাহেরাকে বাঁচাতে সে তাকে নিয়ে অজানার পথে যাত্রা করে। নাটকটিতে ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীকী চরিত্র হলো হাশেম আলি। উদ্দীপকের আরিফও তার মতোই সাহসী চরিত্র। আরিফ ভন্ডামি, শঠতা, প্রতারণা পছন্দ করে না। সুতরাং উদ্দীপকের আরিফ এবং নাটকের হাশেম উভয়ের ভাবনা একই ধারায় উৎসারিত।

2 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘জামাল সাহেব একজন…’ সিলেট বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”