জামাল সাহেব প্রায়ই ক্লান্তি বোধ করছেন। ইদানীং তাঁর ক্ষুধা ও পিপাসা বেড়ে যাচ্ছে, ক্ষতস্থান সহজে শুকাচ্ছে না। এ অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে তিনি রক্ত পরীক্ষা করান এবং একটি রোগ শনাক্ত হয়। ডাক্তার সাহেব অভয় দিয়ে বললেন, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ফুলের পরাগধানীগুলোর একগুচ্ছে অবস্থানকে যুক্তধানী বলে।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। অমরার সাহায্যে ভূণ জরায়ু গাত্রে সংস্থাপিত হয় ও সুরক্ষিত থাকে। অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। এজন্য অমরাকে ফুসফুসের সাথে তুলনা করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত লক্ষণগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে জামাল সাহেবের বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস বলে। জামাল সাহেবের এ রোগটি হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। নিচে তার কারণ উল্লেখ করা হলো-
● এ রোগটি সাধারণত বংশগত ও পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে।
● রক্তে ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এ রোগটি হয়ে থাকে।
● যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে
কাজ করেন, অথবা অলস জীবনযাপন করেন তাদের এ রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
● স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
উদ্দীপকের তথ্য মতে, জামাল সাহেব ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। ডায়াবেটিস হচ্ছে এমন একটি রোগ যা অনিরাময়যোগ্য। ডাক্তারের শেষোক্ত কথা অনুযায়ী "নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়”- নিম্নে কথাটির যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো :
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা আবশ্যক। এগুলো হলো-
i. শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত ও ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
ii . খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা। মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ও সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়।
iii . ঔষধ সেবন (Dose): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর শ্বসন হার কমে যায়, পানি স্বল্পতার কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।
তাই উল্লিখিত আলোচনা হতে বলা যায় যে, ডায়াবেটিস রোগটি অনিরাময়যোগ্য। কেবলমাত্র নিয়মশৃঙ্খলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অর্থাৎ ডাক্তারের শেষোক্ত কথাটির যথার্থতা রয়েছে।
