| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জামিল হাসান উচ্চ…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জামিল হাসান উচ্চ আদালতের একজন বিচারক। আদালতে একটি জটিল মামলার রায় প্রদান করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো সমাধান না পেয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও বিবেক-বুদ্ধি অনুসারে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
'Liberty' শব্দটি ল্যাটিন 'Liber' শব্দ থেকে এসেছে।
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতভেদ রয়েছে। তবে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করার ক্ষেত্রে আইন ও স্বাধীনতার ভূমিকা অপরিসীম।
আইন স্বাধীনতাকে সহজ করে তোলে। আইন আছে বলেই পরিমিত স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। এটি শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতা থেকে জনগণকে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিধি সম্প্রসারিত হয়। তাই বলা যায়, আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
উদ্দীপকে আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায়ের কথা বলা হয়েছে।
বিচারকের রায় বা বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত আইনের অন্যতম উৎস। বিচারকগণ সাধারণত প্রচলিত আইনের দ্বারা বিচারকাজ পরিচালনা করেন। তবে যখন বিদ্যমান আইনের অস্পষ্টতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না তখন বিচারকগণ নিজের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সংগতি রেখে আইনের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে রায় দেন। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যায় এবং একসময় আইনে পরিণত হয়। এভাবে প্রণীত আইনকে 'বিচারক প্রণীত আইন' বা 'বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা' বলা হয়। পরবর্তীতে এসব আইন অন্যান্য বিচারকগণ কর্তৃক অনুসৃত হতে থাকে। উদ্দীপকেও আইনের এ উৎসটি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উচ্চ আদালতের বিচারক জামিল হাসান একটি জটিল মামলার রায় প্রদান করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো সমাধান পান না। ফলে তিনি নিজের প্রজ্ঞা, বিবেক ও বুদ্ধি অনুসারে বিচারকাজ সম্পন্ন করেন। এতে করে নতুন আইনের সৃষ্টি হয়, যা উপরে আলোচিত আইনের অন্যতম উৎস বিচারকের রায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা তার অনুসৃত পদ্ধতিতেই বিচারকগণ কর্তৃক নতুন আইন প্রণীত হয়। এ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে জামিল হাসান কর্তৃক নতুন আইন সৃষ্টি আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায়কে নির্দেশ করে।
"উল্লিখিত উৎস তথা বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের আরও অনেক উৎস রয়েছে"- উক্তিটি যথার্থ।
আইনের উৎপত্তি বিভিন্ন উৎস থেকে হতে পারে। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের ছয়টি উৎসের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ ও জনমত। উদ্দীপকে কেবল বিচারকের রায়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে আইনের উৎপত্তি হতে পারে।
প্রথা হলো আইনের প্রাচীন উৎস। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে সমাজে যেসব রীতিনীতি প্রচলিত ছিল তা পরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন লাভকরে আইনে পরিণত হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনও আইনে পরিণত হতে পারে। যেমন- হিন্দু ও মুসলমানদের বিবাহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন তাদের স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথাগত আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনাও আইনের অন্যতম উৎস। কেননা এসব ব্যাখ্যা আদালতে অত্যন্ত প্রামাণ্য হিসেবে গৃহীত হয়। আবার কোনো মামলার বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রে যদি কোনো আইন না থাকে তবে বিচারকগণ নিজের ন্যায়বোধ থেকে যে সিদ্ধান্ত দেন তা থেকে নতুন আইন তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রত্যেক দেশের আইনসভা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনমত ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের বহুবিধ উৎস রয়েছে, যা একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।