| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জারিফ ও লিপি…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জারিফ ও লিপি দম্পত্তি মূক ও বধির। জারিফের রক্তের গ্রুপ
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
বংশগতির উপাদান DNA তথা জিন। এ উপাদান পিতা মাতার দেহ হতে সন্তানদের দেহে সঞ্চারিত হবার প্রক্রিয়া হলো বংশগতি (Heredity)।
লিঙ্গ নির্ধারক জিন ছাড়া সেক্স ক্রোমোসোমে অবস্থিত অন্যান্য জিনকে সেক্স লিংকড জিন বলে এবং এদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৈশিষ্ট্যগুলোই সেক্স লিংকড বৈশিষ্ট্য। মানুষের যেসব জিন নিয়ন্ত্রিত বংশগতিয় রোগ সেক্স ক্রোমোসোমের (X ও Y) মাধ্যমে বংশ - পরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাদের সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার বা অস্বাভাবিকতা বলে। লাল সবুজ বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়া, মাসক্যুলার ডিসট্রফি ইত্যাদি মানুষের 'X' জিন নিয়ন্ত্রিত রোগ।
উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্য অনুসারে, জারিফ ও লিপি দম্পতি মূক ও বধির হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রথম সন্তান স্বাভাবিক বাক-শ্রবণক্ষম হওয়ার কারণ হলো দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
ধরা যাক, মানুষের স্বাভাবিক বাক ও শ্রবণক্ষমতার জন্য ক্রোমোসোমের ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রকট জিন ও দায়ী। সূত্রমতে, DDEE, DdEE, DdEe, DDEe জিনোটাইপধারী ব্যক্তিগণ স্বাভাবিক এবং DDee, Ddee, ddEE, ddEe জিনোটাইপধারী ব্যক্তিগণ মূক-বধির হবে।
এখন, যদি জারিফের জিনোটাইপ DDee (মূক-বধির) হয় এবং লিপির জিনোটাইপ ddEE (মূক-বধির) হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ক্রস হলে জনুতে নিম্নোক্ত ধরনের ফলাফল পাওয়া যায়:
সুতরাং, জারিফ ও লিপি উভয়ই মূক-বধির হলেও তাদের সন্তান স্বাভাবিক হয়েছে, কারণ তাদের মূক-বধিরতার কারণ ছিল দুটি ভিন্ন লোকাসে থাকা প্রচ্ছন্ন অ্যালিল। এটি দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসের একটি উদাহরণ।
উদ্দীপকে লিপির রক্তের গ্রুপ এবং জারিফের রক্তের গ্রুপ । এই দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা Rh ফ্যাক্টর অসামঞ্জস্যতা বা incompatibility নামে পরিচিত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
Rh নেগেটিভ (Rh-ve) রক্তগ্রুপ বিশিষ্ট মহিলার সাথে Rh পজেটিভ(Rh+ve) রক্তগ্রুপের কোনো পুরুষের বিয়ে হলে তাদের সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বংশগতভাবে Rh পজেটিভ(Rh+ve) অবস্থা Rh নেগেটিভ (Rh-ve) অবস্থার উপর প্রকট হওয়ায় এ দম্পতির প্রথম সন্তান Rh পজেটিভ (Rh+ve) হবে। এ শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময়ে মায়ের রক্তে Rh অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হবে। প্রথমবার গর্ভধারণকালে Rh অ্যান্টিবডি যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত না হওয়ায় শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং এ শিশু জীবিত থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে Rh+ve সন্তান ধারণকালে পূর্বে উৎপাদিত মায়ের রক্তের Rh অ্যান্টিবডি অমরার মাধ্যমে ভূণে প্রবেশ করে এবং ভূণের লোহিত রক্তকণিকাগুলো ধ্বংস করতে থাকে। একে মেডিকেল টার্মে Rh incompatibility বলে। এতে ভূণের বা সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। এ অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলে।