| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে রেচন বলে।
গ্লোমেরুলাসে সক্রিয় পরিবহন চাপের মাধ্যমে রক্তের প্লাজমা থেকে প্রোটিন ও রক্তকণিকা ছাড়া প্রায় সকল উপাদান যেমন- পানি লবণ, শর্করা, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনি, হরমোন, ধাতব আয়ন ইত্যাদি পরিসস্রুত হয়ে রেনাল ক্যাপসুলে জমা হয়। পরিসস্রুত এসব তরল পদার্থকে গ্লোমেরোলার ফিল্ট্রেট বলে। গ্লোমেরুলাসে অতিসুক্ষ ছাকনের জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট একটি ফিল্টার বা ছাকনি থাকে। এই ছাকনি যথাক্রমে গ্লোমেরাসের রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াম, গ্লোমেরুলার রক্তনালীর বেসমেন্ট মেমব্রেন ও বোম্যানস ক্যাপসুলের এন্ডোথেলিয়াম নিয়ে গঠিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত A অংশটি হলো গ্লোমেরুলাস। আর মূত্র সৃষ্টিতে এ অংশটি ব্যপক ভূমিকা পালন করে থকে। কারন প্রাথমিক মূত্র অর্থাৎ গ্লোমেরুলার ফিলট্রট গ্লোমেটুলাস এই ঘটে থাকে।
মালপিজিয়ান বডিতে আল্ট্রাফিলট্রেশন এর মাধ্যমে রক্ত পরিশ্রুত হয় যা মূত্র তৈরির ১ম ধাপ। গ্লোমেরুলাসের ভেতরে হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বেশি থাকায় তরল পদার্থ গ্লোমেরুলাস থেকে বের হয়ে বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। গ্লোমেরুলাসে কৈশিক জালিকায় চাপ ৭০মিমি/ পারদ। এই চাপের বিরুদ্ধে অন্যান্য চাপ ৩৫ মিমি/ পারদ। ফলে রক্ত কণিকা ব্যতীত সকল পদার্থ ইউরিয়া, ইউরিকঅ্যাসিড, শর্করা, ক্রিয়েটিনিন প্রভৃতি পরিশ্রুত হয়ে বোম্যন্স ক্যাপসুলে জমা হয়। অতিসূক্ষ্ণ ছাকনের জন্য গ্লোমেরুলাসের কৈশিক জালিকার প্রাচীর ও বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর মিলো ৩ স্তর বিশিষ্ট ফিল্টার গঠন করে। এই ছাকনিতে বিদ্যমান ছিদ্রপথে গ্লোমেরুলাস ফিল্ট্রট পরিশ্রুত হয়। গ্লোমেরুলাসে বিদ্যমান পডোসাইট কোষ এ ছাকনে বিশেষ ভূমিকা রাখে যা মূত্র তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের B চিহ্নিত অংশটি হলো নিকটবর্তী বা প্রক্সিমাল পেঁচানো নালিকা। এই অংশ কাজ না করলে আমাদের নানা রকমের সমস্যা হতো।
নিকটবর্তী বা প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকা কাজ না করলে আমাদের যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো -
প্রক্সিমাল পেঁচানো নালিকা বোম্যানস ক্যাপসুল এর সাথে সংযুক্ত। এটি প্রায়১৪ মিলিমিটার লম্বা প্যাচানো নালিকা যা বৃক্কের কর্টেক্সে অবস্থিত। এর প্রাচীর একস্তরী এপিথেলিএল কোষে গঠিত। কোষগুলোর একপ্রান্তে অসংখ্য অণুবীক্ষণিক আঙ্গুলের মত অভিক্ষেপ বা মাইক্রোভিলাই থাকে। ওরা নেফ্রনের বিভিন্ন অংশ হতে বিভিন্ন বস্তু পুনঃশোষণ করে। যেমন -,গ্লুকোজ অধিকাংশ লবণ এবং প্রয়োজনীয় পানি। এই পুনর্ শোষণের মাধ্যমে বৃক্কে পানির সমতা বজায় থাকে।গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকে । এছাড়াও প্রয়োজনীয় লবনের পরিমাণ ঠিক থাকে। এ সকল কাজে ব্যাঘাত ঘটলে বৃক্কে পানির সমতা থাকবে না,গ্লুকোজের মাত্রা এবং লবণের পরিমাণ ঠিক থাকবে না। ফলে নানারকম কিডনির রোগ হবে , বৃক্ক বিকল হওয়ার সম্ভাবনা হবে।
নিকটবর্তী বা প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকা কাজ না করলে আমরা উপরাক্ত সমস্যার সম্মুখীন হব।