| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অদ্রবনীয়, কঠিন ও জটিল খাদ্য বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় তরল ও সরল খাদ্যে পরিণত হয়ে শোষন আত্তীকরণের উপযোগী হয় তাকে পরিপাক বলে।
অগ্নাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।
যে গ্রন্থি একই সাথে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে তাকে মিশ্রগ্রন্থি বলে।এটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে আইলেটস অফ ল্যাঙ্গার হ্যান্সস নামক কোষ গুচ্ছ থেকে বিভিন্ন হরমোন যেমন- ইন্সুলিন,গ্লুকাগন ক্ষরন করে।আবার বহি-করা গ্রন্থী হিসেবে বিভিন্ন পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপ্সিন,লাইপেজ ইত্যাদি ক্ষরণ করে।
উদ্দীপকের "A" চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলী।
খাদ্যবস্তু অন্ননালী থেকে পাকস্থলীতে প্রবেশের পর প্রতি ১৫-২০ সেকেন্ড পর পর পাকস্থলীর প্রাচীরে পেরিস্টালটিক সঞ্চালনের ফলে খাদ্য বস্তু পাকস্থলীর গ্রন্থি নিঃসৃত পরিপাক রসের সাথে মিশ্রিত হয় এবং নরম,পিচ্ছিল,হ্রাসপ্রাপ্ত খাদ্যপিন্ড কাইমে পরিনত হয়।পাকস্থলীর পরিপাক রসে বিদ্যমান HCl দ্বারা খাদ্য জীবানুমুক্ত এবং অম্লীয় হয়। পাকস্থলীতে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোন পরিপাক ঘটে না কারণ এখানে শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম থাকেনা। আমিষ খাদ্য পাকস্থলীর গহব্বরে পৌঁছালে পাকস্থলীর প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। এ রসে প্রোরেনিন ও পেপ্সিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এঞ্জাইম থাকে।এরা গ্যাস্ট্রিক রসের HCl এর সাথে বিক্রিয়া করে সক্রিয় রেনিন ও পেপ্সিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিনত হয়।পেপসিন অম্লিয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আদ্র বিশ্লেষণ করে পেপটোন এ প্রটিওজে পরিনত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরপাকস্থলীতে স্নেহ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকের কোনো এনজাইম না থাকায় এ খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। এভাবে পাকস্থলীতে খাদ্যের পরিপাক ঘটে করে।
উদ্দীপকের "B" চিহ্নিত অংশটি হল ক্ষুদ্রান্ত। ক্ষুদ্রান্তে সকল খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ঘটে।
ক্ষুদ্রান্ত হতে শর্করা, লিপিড, প্রোটিনজাতীয় খাদ্য পরিপাকের এনজাইম ক্ষরিত হয়। শর্করা পরিপাক করার জন্য প্রধান এনজাইমগুলো হলো - সুক্রেজ, ল্যাকটোজ, মল্টেজ, অ্যামাইলেস ইত্যাদি। স্টার্চ বা গ্লাইকোজেন এমাইলেজ এঞ্জাইমের প্রভাবে ডাইসেকারাইড ও তা পরবর্তীতে অ্যামাইলাইটিক এঞ্জাইমের প্রভাবে মনোস্যাকারাইড অর্থাৎ গ্লুকোজে পরিণত হয়। এছাড়াও মল্টোজ, সুক্রোজ, ল্যাকটোজ যথাক্রমে মল্টেজ,সুক্রেজ,ল্যাকটেজ এনজাইমের প্রভাবে বিশ্লেষিত হয়ে মনোস্যাকারাইড এ রূপান্তরিত হয়ক্ষুদ্রান্তে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপ্সিন, কাইমোট্রিপসিন,পেপটাইডেজ, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ ইত্যাদি এনজাইম বিদ্যমান। এরা পরবর্তীতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণক্ষ্ম এমিনো এসিডে পরিনত হয়। ক্ষুদ্রান্তেত অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজ, ফস্ফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ বিদ্যমান। এরা চর্বিকে ফ্যাটে এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করেউপরোক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায় যে ক্ষুদ্রান্তে সকল খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ঘটে।