| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
লাইকেন হলো শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান।
শৈবাল প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না।এরা স্বভোজী অর্থাৎ এরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে আলোর উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে সক্ষম। খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল নয় বলে এরা স্বনির্ভর।
উদ্দীপকের A উদ্ভিদটি হলো শৈবাল।
শৈবাল বিভিন্ন উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে থাকে । অঙ্গজ, অযৌন এবং যৌন এ তিনটি পদ্ধতিতেই শৈবাল জনন সম্পন্ন করে থাকে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে শৈবাল সাধারণত বিভিন্ন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে থাকে। স্পোরগুলো সাধারণত অযৌন জনন পদ্ধতিতেই তৈরি হয়ে থাকে। নিচে শৈবালটি প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে বংশবৃদ্ধি করে তা বর্ণনা করা হলো-
শৈবালের স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে ফ্ল্যাজেলাবিহীন, নিশ্চল স্পোর উৎপন্ন হয় ৷ প্রতিকূল পরিবেশে উৎপন্ন এসব অ্যাপ্লানোস্পোর অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবাল সৃষ্টি করে ।অতিরিক্ত শুষ্কতার সময় অ্যাপ্লানোস্পোর অত্যন্ত পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হলে তাকে হিপনোস্পোর বলে । এগুলো অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে বংশবিস্তার করে। প্রতিকূল পরিবেশে,যেমন— অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে কিছু কিছু শৈবাল মাতৃকোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজনের মাধ্যমে ফ্ল্যাজেলাবিহীন অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। কোষগুলো একটি সাধারণ মিউসিলেজের আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। ফ্ল্যাজেলাবিহীন অপত্য কোষসমূহের এরূপ অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। প্রতিকূল পরিবেশে কোনো কোনো শৈবালের দেহকোষ পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত অবস্থায় প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে বিশেষ রেণুতে পরিণত হয় যা অ্যাকিনিটি নামে পরিচিত। অনুকূল পরিবেশে অ্যাকিনিটির অঙ্কুরোদগম শুরু হয় এবং নতুন শৈবালের সৃষ্টি হয় । এছাড়া এন্ডোস্পোর, অক্সোম্পোর, হর্মোগোনিয়াম ইত্যাদি মাধ্যমেও প্রতিকূল পরিবেশে শৈবাল বংশ বৃদ্ধি করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত B হলো ছত্রাক।
খাদ্য, শিল্প ও বাণিজ্য, ওষুধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ছত্রাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।নিচে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ছত্রাকের গুরুত্ব দেওয়া হলো-
খাদ্য শিল্পে : 'মাশরুম' বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পৃথিবীর বহুদেশে এটি সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বড় বড় হোটেলগুলোতে খাদ্য হিসেবে, বিশেষ করে স্যুপ তৈরিতে মাশরুম ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিগত দিক থেকে Agaricus campestris ও Agaricus bisporus অত্যন্ত উঁচু মানের এবং সুস্বাদু। টাটকা মাশরুমে নানা ধরনের ভিটামিন যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, Vit-C, D, K ও প্যান্টোথেনিক এসিড পাওয়া যায়। ওষুধ শিল্পে:
এতে আঁশ বেশি থাকায় এবং শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাবার। এতে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ যেমন-Ca, K, P, Fe ও Cu আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা এটি নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।এতে প্রচুর উৎসেচক আছে যা হজমে সহায়ক, খাবারে রুচি বাড়ে এবং পেটের পীড়া নিরাময় করে। এতে লোভাস্টাটিন, এনটাডেনিন ও ইরিটাডেনিন থাকে যা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অন্যতম
উপাদান। মাশরুম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
সুতরাং বলা যায়, ছত্রাক খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।