| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০২১ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
উদ্ভিদ শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ CO2 ত্যাগ করে এবং যে পরিমাণ O2 গ্রহণ করে তার অনুপাতকে শ্বসনিক কুশেন্ট বা হার বলে।
অন্তঃত্বকের কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট ও পিপার ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট । এদের মধ্যে কোনো আন্তঃকোষীয় অবকাশ থাকে না। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে অন্তঃত্বক থাকলেও একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে তা থাকে না। তবে উভয় ধরনের মূলেই অন্তঃত্বক আছে। মূলের অন্তঃত্বকের প্রাচীরে সুবেরিন ও লিগনিন যুক্ত হয়ে সরু ফিতার ন্যায় স্তর সৃষ্টি হয়। ফিতার ন্যায় এ স্তরটির নাম ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ। বিজ্ঞানী Caspery এটি প্রথম শনাক্ত করেন বলেই এর নাম ক্যাসপেরিয়ান ফিতা বা স্টিপ ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' নির্দেশিত প্রক্রিয়াটি হলো পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের হার কতগুলো প্রভাবক বা নিয়ন্ত্রকের উপর নির্ভরশীল। প্রস্বেদনের প্রভাবকসমূহকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) বাহ্যিক বা পরিবেশীয় প্রভাবকসমূহ এবং (খ) অভ্যন্তরীণ বা উদ্ভিদের গঠনগত প্রভাবকসমূহ। নিচে প্রভাবকসমূহের বর্ণনা দেয়া হলো-
(ক) বাহ্যিক বা পরিবেশীয় প্রভাবকসমূহ :
১. আলো : প্রখর সূর্যালোকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। আবার আলোর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র বন্ধ ও উন্মুক্ত হয়, যা পরোক্ষভাবে প্রস্বেদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। তীব্র আলোতে প্রস্বেদন বেশি হয় ।
২. তাপমাত্রা : সাধারণত ১০°-১৫° সে. তাপমাত্রায় স্বাভাবিক প্রস্বেদন ঘটে। তাপের হ্রাস বৃদ্ধির ফলে প্রস্বেদন হারের ও হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে ।
৩. বায়ুচাপ : বায়ুচাপ বেশি হলে প্রস্বেদন কম হয় এবং বায়ুচাপ কম হলে প্রস্বেদন বেশি হয়।
৪. মাটিস্থ পানি : মাটিতে পানির পরিমাণ কম থাকলে উদ্ভিদের পানি পরিশোষণের পরিমাণ কমে যায় এবং এতে প্রস্বেদন হ্রাস পায়। অন্যদিকে মাটিতে পানির পরিমাণ বেশি হলে উদ্ভিদ পানি বেশি গ্রহণ করে ফলে প্রস্বেদনও বেশি হয়।
(খ) অভ্যন্তরীণ বা উদ্ভিদের গঠনগত প্রভাবকসমূহ :
১. পত্ররন্ধ্র : পত্ররন্ধ্রের ছিদ্র সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হলে প্রস্বেদন বেশি হয় এবং ছিদ্র আংশিক উন্মুক্ত হলে প্রস্বেদনের পরিমাণ কম হয়। পত্ররন্ধ্রের সংখ্যাও প্রস্বেদনের হারকে প্রভাবিত করে।
২. পাতার আয়তন ও সংখ্যা : পাতার আয়তন ও সংখ্যা যত বেশি হয় পত্ররন্ধ্রের সংখ্যাও তত বেশি হয়। ফলে প্রস্বেদনের হা বেড়ে যায় ।
৩. মেসোফিল টিস্যুতে পানির পরিমাণ : পাতার মেসোফিল টিস্যুতে পানির পরিমাণ বেশি হলে প্রস্বেদনের হার বেশি হয়। আবার মেসোফিল টিস্যুতে পানির পরিমাণ কম হলে প্রস্বেদনের হারও কম হয়।
৪. পত্রমোচন : শীতকালে অনেক উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় সেসব উদ্ভিদে তখন প্রস্বেদন কম হয়।
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহ সম্পাদিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা কর হলো- পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ৯৫ ভাগ প্রস্বেদন হয় যা পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন নামে পরিচিত। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক প্রক্রিয়া। পাতা ও অন্যান্য অংশে পানি ও খাদ্যরস পৌঁছানো অপরিহার্য। প্রস্বেদনের ফলে বাহিকানালিতে পানির যে টান পড়ে তা সরাসরি পানিকে জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে মূল হতে কাণ্ড হয়ে পাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করে। এ পানির সাথে মূল কর্তৃক শোষিত খনিজ পদার্থ তথা সামগ্রিকভাবে খাদ্যরস উপরে উত্থিত হয়। পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক কার্যাবলি যা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট বাহিকা নালিতে টানের ফলে সৃষ্টি হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে পাতা ও অন্যান্য অংশে খনিজ লবণ পৌঁছায়। সকল কোষে পানি সরবরাহ, পাতায় উপযুক্ত তাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য পানির প্রয়োজন হয়।