পুষ্পাক্ষ: পুষ্প বৃন্তের শীর্ষভাগে যে গোলাকার প্রসারিত অংশে ফুলের বৃতি, দল, পুংস্তক এবং স্ত্রীস্তবক সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
উচ্চ শ্রেণীর অধিকাংশ উদ্ভিদ দুটি বিপরীতধর্মী জননকোষ পরস্পরের সাথে মিলিত হয়। এদের একটি পুংজনন কোষ অন্যটিকে স্ত্রীজনন কোষ বলে। উদ্ভিদে এই ধরনের জনন কোষ একই দেহে সৃষ্টি হলে এরা সহবাসী (monoecious) উদ্ভিদ। যখন দুধরনের জননকোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদকে ভিন্নবাসী (dioecious) উদ্ভিদ বলে। একারণে সহবাসী উদ্ভিদ ভিন্নবাসী উদ্ভিদ থেকে আলাদা।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হল মানব প্রজনন। নিম্নে মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
▶ পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন ধরনের বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন ও উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়। এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থি বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
▶ থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি, যৌনলক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে।
▶ অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।
▶ শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন শুক্রাণু উৎপাদন, দাঁড়ি, গোফ গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন ইত্যাদি যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।
▶ ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন হরমোন মেয়েদের নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ, অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
▶ অমরা থেকে নিঃসৃত গোনাডেট্রপিক ও প্রোজেস্টেরন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে ও গুনগ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম।
