| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০২২ – টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
প্রতিটি সজীব উদ্ভিদ কোষেরই পূর্নাঙ্গ উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়ার যে অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আছে তাকে টটিপটেন্সি বলে।
ব্যাক্টেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মূল ক্রোমোসোম ছাড়াও যে বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA অণু থাকে তাকে প্লাসমিড বলে।
আণবিক বংশগতিবিদ্যার গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্লাসমিড ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জিন ক্লোনিং ইত্যাদি কজে প্লাসমিড অত্যন্ত উপযোগী বাহক হিসেবে কাজ করে। প্লাসমিড DNA ব্যবহার করে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য পাওয়া গেছে। যেমন, মানুষের ইনসুলিন, জিন ক্লোনিং, রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপাদন ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'B' প্রক্রিয়াটি হলো জীবপ্রযুক্তি তথা রিকম্বিনেন্ট DNA।
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিবিজ্ঞান।এটির মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ ইনসুলিন তৈরি করা যায়।
ইনসুলিন তৈরির ধাপগুলো হলো-
১) প্রথমে মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স কোষ সংগ্রহ করা হয়।
২) এরপরে মানুষের অস্ত্র থেকে E. coli ব্যাকটেরিয়াম সংগ্রহ করা হয় ।
৩) রেস্ট্রিকশন এনজাইমের সাহায্যে ইনসুলিন জিন এর মাপে প্লাসমিডের নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা হয়।
৪) লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে ব্যাকটেরিয়ামের প্লাসমিড DNA ও মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিনের DNA জোড়া লাগানো হয়।
৫) ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় E. coli ব্যাকটেরিয়ামের ভেতর রিকম্বিনেন্ট DNA প্রবেশ করানো হয়।
৬) ফার্মেন্টেশন ট্যাংক থেকে রিকম্বিনেন্ট DNA ধারী ব্যাকটেরিয়াম বংশবৃদ্ধি করে ও তার দেহে ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য দায়ী জিন থাকায় ইনসুলিন উৎপাদন করে ।এরপরে মানব ইনসুলিন রোগীর দেহে প্রবেশ করানো হয়।
এভাবেই ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ ইনসুলিন তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকের A প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যু কালচার। এটি কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করা কোনো টিস্যু সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত অবস্থায় উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে বৃদ্ধিকরণ করাকে টিস্যু কালচার বলে।
টিস্যু কালচার এর মাধ্যমে একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে স্বল্প সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বহু চারা সৃষ্টি করা যায়। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত হওয়া যায়। ফলে সারা বছর ইচ্ছেমত ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুত করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। নীরোগ ও সুস্থ বীজ থাকার কারণে ফলন ভালো হয়। কলমে অক্ষম উদ্ভিদের চারা উৎপাদন করা যায়। অল্প পরিসরে অধিক চারা উৎপাদন। উদ্ভিদের যে কোনো টিস্যু থেকে চারা উৎপাদন। অতি সস্তায় বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন। বিদেশী জাতের উদ্ভিদ থেকে দেশী আবহাওয়া উপযোগী জাত সৃষ্টি করা। ফলে উদ্ভিদের মধ্যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টই হয়। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না সেগুলোর চারা প্রাপ্তি ও স্বল্প খরচে দ্রুত সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ পুনঃউৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি।
সুতরাং বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রে টিস্যু কালচার এর অবদান অনস্বীকার্য।