| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ শর্করা উৎপন্ন হয়, তাকে গ্লুকোনিয়োজেনেসিস বলে।
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে লালা বা লালারস বলে। লালারসের উপাদানসমূহ নিম্নরূপ:
১. পানি: ৯৫.৫% - ৯৯.৫%।
২. কোষীয় উপাদান: ইস্ট,ব্যাকটেরিয়া,প্রোটোজোয়া,লিউকোসাইট,এপিথেলিয়াল কোষ।
৩. অজৈব পদার্থ: সোডিয়াম ক্লোরাইড,পটাসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ফসফেট,ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, পটাসিয়াম থায়োসায়ানেট ইত্যাদি।
৪. জৈব পদার্থ: প্রায় ০.৩% এনজাইম, মিউসিন, ইউরিয়া, অ্যামিনো এসিড, কোলেস্টেরল, ভিটামিন, অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। চর্বি বা লিপিড জাতীয় খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে পরিপাক হয়। লিপিড জাতীয় খাবার পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড, গ্লিসারল, মনোগ্লিসারাইড, ফসফোলিপিড ও কোলেস্টেরলে টরিণত হয়। স্নেহজাতীয় খাবারগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক হয়-
ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল পরিপাকের প্রয়োজন হয় না কারণ সমস্ত ফ্যাটই ক্ষুদ্রান্ত্রে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল রূপে শোষিত হয়। আর বাকি উপাদানগুলো আমাদের পরিপাকনালিতে পাচিত হয়। গ্লিসারল পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় সরাসরি ভিলাইয়ের প্রাচীর ভেদ করে পোর্টাল শিরায় প্রবেশ করে। কিন্তু ফ্যাটি অ্যাসিড শোষণ একটি জটিল প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকের 'Y' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃত। নিচে যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা প্রদান করা হলো-
১.শর্করা বিপাক: যকৃত দেহের প্রয়োজনে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কে গ্লাইকোজেন-এ রূপান্তর করে যা গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়া নামে পরিচিত। আবার যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের ঘাটতি পড়লে এখানে অশর্করা উৎস যেমন -প্রোটিন ও ফ্যাট হতে শর্করা প্রস্তুত হয়।
২.ফ্যাট বিপাক: যকৃত কোষ অতিরিক্ত শর্করাকে ফ্যাট এ রূপান্তর করে, রক্তের কোলেস্টেরলকে ভাঙ্গে অথবা সংশ্লেষ করে।
৩.প্রোটিন বিপাক: যকৃত ডিএমাইনেশন প্রক্রিয়ায় প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত এমাইনো এসিড কে ভাঙ্গে। আবার ট্রান্স-অ্যামাইনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামিনো এসিড থেকে এমাইনো গ্রুপকে বহন করে অন্য কোন জৈব এসিডেই স্থানান্তর করে।
৪.ইউরিয়া প্রস্তুতি: যকৃতের হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে এসিড সঞ্চালিত হয়। এখানে এ্যামাইনো এসিডের নাইট্রোজেন অংশ ইউরিয়ায় রূপান্তরিত হয় যা ডি-অ্যামাইনেশন প্রক্রিয়া নামে পরিচিত। ৫.রক্তের প্রোটিন তৈরি: অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন সমূহ যকৃতে তৈরি হয় যা খাবার থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনের অ্যামাইনো এসিডের যৌগসমূহ হতে পাওয়া যায়।
৬.রক্ত জমাট বাধাঁনোর উপাদান প্রস্তুতি: যকৃত কোষ কর্তৃক রক্ত জমাট বাঁধানোর উপাদান সমূহ উৎপাদিত হয়।
৭.চর্বির অসম্পৃক্তকরণ: চর্বি, দেহের টিস্যু কর্তৃক ব্যবহৃত হওয়ার পূর্বে অবশ্য এর গঠন হতে হাইড্রোজেন দূরীভূত করতে হয়, আর এই কাজটি যকৃত সংঘটিত হয়। এ অসম্পূর্ণ চর্বি দেহে শক্তির যোগান দেয়।
৮.লোহিত রক্তকণিকার গঠন ও ভাঙ্গন: ভ্রুন শিশুর লোহিত রক্তকণিকা মূলত যকৃতে গঠিত হয়, বয়স্কদের ক্ষেত্রে তা অস্থিমজ্জায় সংঘটিত হয়। এছাড়া ১২০ দিন জীবনকালের লোহিত কণিকার ভাঙ্গন যকৃতের সম্পন্ন হয়।
৯.হরমোন ভাঙ্গন: যকৃত সকল প্রকার হরমোন ভাঙ্গন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।