| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
কানের ভিতরে বা বাইরে যে কোন অংশে সংক্রমণজনিত প্রদাহকে ওটাইটিস (otitis) বলে । কানের মধ্যকর্মে সংক্রমণজনিত প্রদাহকে বলা হয় ওটাইটিস মিডিয়া (otitis media / middle ear infection)।
সাইনুসাইটিসের লক্ষণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. এর প্রধান লক্ষণ মাথা ব্যথা।
২. নাক বন্ধ হয়ে থাকা এবং মাঝে মাঝে নাক দিয়ে পানি ঝরা।
৩. দাতে ব্যথা, গলাভাঙ্গা।
৪. নাক থেকে হলদে বা সবুজ বর্ণের ঘন তরল বের হয়, এতে পুজ বা রক্ত থাকতে পারে।
৫. কাশি হয়, রাতে কাশির তীব্রতা বাড়ে।
উদ্দীপকের 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো অ্যালভিওলাস। নিচে অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো:
ফুসফুসের কার্যকারী একক হলো অ্যালভিওলাস। এগুলো আঙ্গুরের মতো থোকার মতো গুচ্ছাবিশিষ্ট,অতি ক্ষুদ্রাকায়,বুদবুদ সদৃশ বায়ুথলি এবং গ্যাস বিনিময়ের তল গঠন করে। ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের সংখ্যা বয়সের সাথে সম্পর্কিত। অ্যালভিওলাসের বাইরের দিকে প্রচুর কৈশিকজালিকা নিবিড়ভাবে অবস্থান করে। পালমোনারি ধমনি থেকে এগুলোর উৎপত্তি হয় এবং পুনোরায় মিশে গিয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা,চাপা স্কোয়াসমাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত হওয়ায় সহজেই ব্যাপন ঘটাতে পারে। অ্যালভিওলাস প্রাচীর ফ্যাগোসাইটোসিস অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে। ম্যাক্রোফেজ অনুজীব এবং অন্যান্য বহিরাগত কণা ধ্বংস করে। তাছাড়া প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে। এ স্থিতিস্থাপক সূএের কারণে প্রশ্বাস-নিঃশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাস প্রসারিত হতে পারে,আবার পূর্বাবস্থায় ফিরেও আসতে পারে।
অ্যালভিওলাস প্রাচীরে সেপ্টাল কোষ নামক কিছু বিশেষ কোষ থাকে যা প্রাচীরের ভেতরের দিকে সারফ্যাকটেন্ট নামক ডিটারজেন্ট এর অনুরূপ ফসফোলিপিড রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। সারফ্যাকটেন্ট সারফেস টেনশন হ্রাস করে অ্যালভিওলাসকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। সারফ্যাকটেন্ট বিহীন অ্যালভিওলাস তথা ফুসফুসের যথাযথ কাজ করতে পারে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Q' গ্যাসটি হলো CO2। শর্করা জারণের সময় কোষে CO2 সৃষ্টি হয়। এই CO2 দেহের জন্য ক্ষতিকর। কোষ থেকে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং ফুসফুস থেকে বায়ুতে মুক্ত হয় । নিচে বর্ণিত তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয়।
ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) CO2 রক্তরসের পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড গঠন করে।
H2O + CO2 → H2CO3 (কার্বনিক এসিড)
এ বিক্রিয়ায় কার্বনিক অ্যানহাইডেজ এনজাইম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রতি হাজার CO2 অণুর মধ্যে মাত্র এক অণু HCO2 রূপে দ্রবণে উপস্থিত থাকে । সুতরাং CO2-এর খুব সামান্য অংশই H2CO3 রূপে পরিবাহিত হয়।কার্বামিনো যৌগরূপে: টিস্যুকোষ থেকে রক্তের প্লাজমায় আগত CO2 -এর কিছু অংশ লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে । লোহিত কণিকার মধ্যে যে হিমোগ্লোবিন থাকে তার গ্লোবিন (প্রোটিন) অংশের অ্যামিনো গ্রুপের- (NH) সাথে CO2 যুক্ত হয়ে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে ।
CO2-এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনোপ্রোটিন গঠন করে ।
PrNH2+ CO2 - PrNHCOOH (কার্বামিনোপ্রোটিন) এ রাসায়নিক ক্রিয়া এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে অতি দ্রুত সম্পন্ন হয় । মোট CO2-এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয় ।
বাইকার্বোনেট যৌগরূপে: CO2-এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বোনেটরূপে পরিবাহিত হয়।
(১) NaHCO3— রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং
(২) KHCO3 -রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।