| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – বায়ুমন্ডল ও বায়ুদূষণ, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
স্বাভাবিক উপাদানের বাইরে বায়ুতে যখন নানা ধরনের ধোঁয়া, - গ্যাস, ধুলা-বালি, সিসাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের অনুপ্রবেশ ঘটে তখন তাকে বায়ুদূষণ বলে।
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে এ জলীয়বাষ্পের অনুপাত বায়ুমণ্ডলে খুবই সামান্য। যা বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে অবস্থান করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলীয়বাষ্পের ধারণ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ঋতুভেদে ও অঞ্চলভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। বায়ুতে এর পরিমাণ ০.৪১% নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের অণুগুলোর মতো জলীয়বাষ্পের অণুগুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায়। ফলে জলীয়বাষ্পের প্রভাবে শিশির, কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টি, তুষারপাত ইত্যাদি সৃষ্টি হয়ে থাকে। পৃথিবীর পৃষ্ঠে এগুলোর যথেষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের 'খ' স্তরটি হলো থার্মোস্ফিয়ার। নিচে থার্মোস্ফিয়ারের বর্ণনা দেওয়া হলো:
মেসোস্ফিয়ারের উপরে থার্মোস্ফিয়ার স্তরের অবস্থান। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী এ স্তরটি ভূপৃষ্ঠের ৮০ কিমি. ঊর্ধ্ব থেকে ৬৪০ কিমি. ঊর্ধ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরে সূর্যের তাপ খুব বেশি। ৮০ কিমি. উচ্চতায় উষ্ণতা ৯৩° সে. তারপর থেকে যতই উপরে যাওয়া যায় তাপ বাড়তে থাকে। ৫০০ কিমি. উচ্চতায় তাপ প্রায় ১২০০° সে. হয়।
অতিরিক্ত তাপের কারণে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎযুক্ত কণা বা আয়ন ও ইলেকট্রনে পরিপূর্ণ হয় এ অঞ্চলটি। যে কারণে এ স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বলে। এখানে পজেটিভ ও নেগেটিভ দু ধরনের আয়নের প্রাচুর্যের কারণে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে আবারও ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। আয়নোস্ফিয়ারের এ প্রভাবের কারণে ভূপৃষ্ঠে মানুষ অতি সহজে বেতার শুনতে পায়। আয়নোস্ফিয়ার বিপজ্জনক এক্সরে রশ্মির হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। এ স্তরে বায়ুপ্রবাহ নেই। বিদ্যুৎ চমকায়। এখানে কসমিক কণা ও উল্কা দেখা যায়।
উদ্দীপকের 'ক' স্তরটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার। ট্রপোস্ফিয়ার জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো:
বায়ুমণ্ডলের ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তরগলো ট্রপোস্ফিয়ার। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কিলোমিটার উর্ধ্ব পর্যন্ত এর বিস্তার ধরা হয়। এ বায়ু স্তরের গভীরতা সর্বত্র সমান থাকে না। নিরক্ষীয় অঞ্চলে এর গভীরতা ১৬ কিমি. এবং মেরু অঞ্চলে গভীরতা ৮ কিমি.। এ স্তর থেকে যতই উপরের দিকে উঠা যায়, ততই উষ্ণতা কমতে থাকে। প্রতি কিলোমিটার বা ১০০০ মিটার উচ্চতায় বায়ুর তাপমাত্রা গড়ে ৬.৫° সেলসিয়াস হারে হ্রাস পায়।
এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বাড়ে। নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। জীবনধারণের জন্য এ স্তরটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। ট্রপোস্ফিয়ারের শেষ সীমাকে ট্রপোপজ বলে। ঝড়-বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব ঘটে না বলে বিমান এ স্তরে বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি ট্রপোস্ফিয়ার জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।