ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল এর 40% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
জৈব যৌগ অজৈব যৌগ থেকে আলাদা। কারণ জৈব যৌগের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন ক্যাটিনেশন, সমাণুতা, পলিমারকরণ, চতুর্যোজ্যতা ইত্যাদি। ক্যাটিনেশন ধর্মের কারণে কার্বন পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল তৈরি করতে পারে, যা জৈব যৌগের আধিক্যকে নির্দেশ করে। অজৈব যৌগে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে না। এছাড়াও সাধারণত জৈব যৌগে C অবশ্যই থাকে। তবে অজৈব যৌগ সাধারণত C বিহীন হয়; দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া।
উদ্দীপকের C যৌগটি ইথাইন () এবং D যৌগটি সোডিয়াম ইথানোয়েট । নিচে ইথাইন থেকে সোডিয়াম ইথানোয়েট যৌগ প্রস্তুতি বিক্রিয়াসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
ইথাইন থেকে সোডিয়াম ইথানোয়েট প্রস্তুতি: 80 °C তাপমাত্রায় ইথাইন এর মধ্যে 20% সালফিউরিক এসিড এবং 2% মারকিউরিক সালফেট দ্রবণ যোগ করলে ইথান্যাল উৎপন্ন হয়।
উৎপন্ন ইথান্যালকে শক্তিশালী জারক ও
বিক্রিয়া:
উৎপন্ন ইথানোয়িক এসিড কস্টিক সোডার (NaOH) সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ইথানয়েট লবণ তৈরি করে।
বিক্রিয়া:
উদ্দীপকের A ও B যৌগদ্বয় যথাক্রমে ও । এ যৌগদ্বয় ব্যবহার করে গ্রুপ সম্বলিত খাদ্য সংরক্ষক মিথান্যাল ও অ্যাসিটালডিহাইড যৌগ পাওয়া যাবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
HCHO হচ্ছে প্রধান খাদ্যসংরক্ষক, যা মৃতদেহ ও জৈব নমুনা সংরক্ষণে বহুল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে খাদ্য সংরক্ষকটি ফলমূল সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
◉ ইথিন থেকে অ্যাসিটালডিহাইড প্রস্তুতি: ইথিন ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পরস্পরের সাথে ক্যাটালিস্ট এর উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটালডিহাইড উৎপন্ন করে। এ প্রক্রিয়াটি সহজ ও কার্যকরী উপায়।
বিক্রিয়া:
◉ ইথিন থেকে মিথান্যাল তথা ফরমালডিহাইড প্রস্তুতি: ইথিন এবং এর সরাসরি বিক্রিয়ায় ফরমালডিহাইড (HCHO) তৈরি হয় না। এদের বিক্রিয়ায় ইথিলিন গ্লাইকল উৎপন্ন হয়। তবে ইথিলিন থেকে ফরমালডিহাইড উৎপাদনের কার্যকরী পদ্ধতি হলো ওজোনোলাইসিস। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে না। ইথিনকে ওজোনিকরণ করলে ইথিলিন ওজোনাইড পাওয়া যায়। পরে একে Zn সহ আর্দ্রবিশ্লেষণ করলে মিথান্যাল তথা ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়া:
