| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী…’ a – বাণিজ্য, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী জনাব জামাল বরিশাল হতে চাল, দিনাজপুর হতে গম, যশোর হতে চিনি, দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য এনে বিক্রি করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং আদান-প্রদানকে বাণিজ্য বলে।
বিভিন্ন স্থানে সম্পদের চাহিদা থেকে বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো একই স্থানে উৎপাদন বা তৈরি হয় না। তাই পণ্যগুলো বণ্টনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর তখনই বাণিজ্যের প্রয়োজন হয়।
ভৌগোলিকগত কারণে এক এক স্থানে এক এক ধরনের শস্য ভালো হয়। আবার জনসংখ্যার তারতম্যভেদে শিল্পোন্নয়ন হয়। যার কারণে উদ্বৃত্ত অঞ্চল হতে ঘাটতি অঞ্চলে পণ্যসামগ্রী পৌছানো হয় এবং বাণিজ্যের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে জামাল সাহেবের সহজলভ্য ও সুলভ যাতায়াত পথ কোনো কোনো ক্ষেত্রে জলপথ আবার কোনো ক্ষেত্রে সড়কপথ ব্যবহার করা যেতে পারে।
কারণ তিনি বরিশাল হতে চাল, দিনাজপুর হতে গম, যশোর হতে চিনি, দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য নিয়ে আসেন। উদ্দীপকে জামাল সাহেব বরিশাল থেকে চাল আনতে নদীপথই উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিবেন। কেননা বরিশালের সাথে যেকোনো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে নদীপথ দ্বারা। বিশেষ করে ঢাকার সাথে বরিশালের উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীপথ। তাই এ পথেই চাল আমদানি সুলভ ও সহজলভ্য। তিনি দিনাজপুর থেকে গম আমদানি করতে সড়কপথ অথবা রেলপথ ব্যবহার করতে পারেন। কেননা দিনাজপুর থেকে ঢাকার সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। এরপর যশোর হতে চিনি আনতে তিনি রেলপথ ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, ঢাকার সাথে যশোরের রেলপথের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া রেলপথে সুলভমূল্যে অনেক বেশি মালামাল পরিবহন করা যায়। অন্যদিকে তিনি শুধু অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি। কেননা তিনি দেশের বাইরেও বাণিজ্য করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও অংশগ্রহণ করেছেন। যেমন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে হিমায়িত খাদ্য আমদানি করে এদেশে বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে সমুদ্রপথ হচ্ছে সহজলভ্য ও সুলভ যোগাযোগ পথ। এজন্য তিনি বিমানপথও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যয়ও বেশি হবে।
সুতরাং বলা যায়, বিভিন্ন অঞ্চলভেদে ও দেশভেদে যোগাযোগ পথের সুবিধা অনুযায়ী বাণিজ্য হয়ে থাকে। আলোচ্য উদ্দীপকের জামাল সাহেব তার সুবিধা অনুযায়ী অঞ্চলভেদে এক এক ধরনের যাতায়াত পথ অবলম্বন করেন।
উদ্দীপকে জামাল সাহেবকে আমরা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বাণিজ্যে জড়িত দেখতে পাই। জনাব জামালের কাজগুলো কোনটি কোন ধরনের বাণিজ্য তা ছকে দেখানো হলো-
| বাণিজ্যিক অঞ্চল | বাণিজ্যের ধরন |
| 1. বরিশাল হতে চাল | অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| ii. যশোর হতে চিনি | অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| iii. দিনাজপুর হতে গম | অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| iv. দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য |
উক্ত কাজগুলোর মধ্যে বরিশাল হতে চাল, যশোর হতে চিনি এবং দিনাজপুর হতে গম অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য। কারণ কোনো একটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের আদান প্রদানকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে। আবার দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য আমদানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। কারণ যখন এক দেশের সাথে অন্য দেশের পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় হয় তখন তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।