| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জব্বার আলি একদিন…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জব্বার আলি একদিন স্বপ্নে খুঁজে পায় এক কামেল পীরের মাজার। বন-জঙ্গল ঘেরা ‘বাঘের মাঠ’ খ্যাত সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামেই শায়িত আছেন এক কামেল পীর। স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের ভিতর। স্থানীয় জনগণ খুঁজে পায় এক প্রাচীন পরিত্যক্ত মাজার। জঙ্গল পরিষ্কার করে রাতারাতি সেখানে টিনের ছাউনি ওঠে। চাঁদা তোলা হয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে। পরিপাটি ও সুসজ্জিত হয় মাজার। এখানে বিভিন্ন লোক রোগ-শোকের জন্য মানত করতে আসে। এমনকি বন্ধ্যা নারীরাও ছুটে আসে সন্তান লাভের আশায়। এখানে প্রতি বছর এখন মেলা বসে। বর্তমানে মাজারের খাদেম জব্বার আলি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জমিলা ।
“মনে হয় এটা খোদা তা'লার বিশেষ দেশ।”— কারণ সেখানে শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।
প্রশ্নোক্ত কথাটি মজিদ সাহেবের শস্যশূন্য ও অভাবী দেশ সম্পর্কে করা হয়েছে। সেখানে মানুষ প্রচন্ডভাবী।এই অভাবের মধ্যে তার ধর্মচর্চা করে। ঘরে খাবার না থাকলেও তারা ধর্মচর্চায় কার্পণ্য করে না। তাদের মধ্যে সবাই খোদার ভয়ে ধর্ম চর্চা করে এমন নয়। কেউ কেউ ধর্মের নামে প্রতারণা ও ভন্ডামি করে। এই প্রতারকরাই ধর্মের আগাছা সেখানে শস্য না থাকলেও টুপি আছে।
গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কুসংস্কারে বিশ্বাস ও পিরভক্তির দিক থেকে উদ্দীপকের সাজ্ঞাডাঙা গ্রামের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে।
গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত, অসচেতন ধর্মবিরু বলে কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। না বুঝে ধর্মব্যবসায়ী পীর ফকিরদের ফাঁদে পড়ে। তাদের সেই বিশ্বাসভক্তি সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ স্বার্থ উদ্ধার করে।
উদ্দীপাকে দেখা যায় জব্বার আলী নামে এক লোক স্বপ্নে খুঁজে পায় কামিল পীরের মাজার। বন জঙ্গল ঘেরা বাঘের মাঠ খ্যাত সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামে শায়িত আছেন এক কামিল পির। স্বপ্নের ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের ভিতর। তদ্রূপ লালসালু উপন্যাসেও মোহব্বতনগরের মজিদের তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজার খুঁজে পাওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।গ্রামের সহজ-সরল মানুষেরা ধর্মভীরু হওয়ায় কুসংস্কারের বিশ্বাস করে। ঠিক উদ্দীপকেও তাই হয়েছে। গ্রামের লোকেরা সেই কামেল পীরের মাজারে গিয়ে রোগ শোকের জন্য মানত করে।বন্ধ্যা নারিরা সন্তান লাভের জন্য সেই মাজের ছুটে যায়।মাজারের প্রতি পীরের প্রতি তাদের এই ভক্তি ও বিশ্বাস লালসালু উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের কুসংস্কার বিশ্বাস ও পিরভক্তির অনুরূপ।
“উদ্দীপকের 'কামেল পিরের মাজার' ও 'লালসালু' উপন্যাসের “মোদাচ্ছের পিরের মাজার' এক এবং অভিন্ন ।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
ধর্মভীরু অশিক্ষিত সহজ সরল মানুষ অসচেতনবশত কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। তারা ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীদের ধূর্ততায় প্রতারিত হয়।নিজেদের অসহায়ত্বকে তুলে ধরে তারা স্বার্থপর হীন ব্যক্তিদের কাছে ঠকে লালসালু উপন্যাসে মোদাচ্ছের পীরের মাজার আবিষ্কার করেছে শস্যশূন্য আগাছার দেশ থেকে আসা মজিদ। সেই গ্রামের সহজ সরল মানুষের ধর্ম বিশ্বাস ও ভয়কে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করেছে।নিজের স্বার্থকে হাসিল করার জন্য সে গ্রামবাসীদের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগায়। তার কথাগুলো বিশ্বাস করে নেয় গ্রামবাসীরা।ঠিক তেমনি উদ্দীপকের মাজারটিকে কেন্দ্র করে সাঞ্চাডাঙা মানুষের অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। মাজারে গিয়ে তারা তাদের বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণের জন্য মানত করেছে।লালসালু উপন্যাস ও উদ্দীপকে উভয়ে মাজাকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যবসায় করেছে। তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য ছিল অর্থ উপার্জন। মানুষকে বোকা বানিয়ে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন ছিল তাদের উভয়েরই মূল উদ্দেশ্য।এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।