| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জব্বার তালুকদার ভদ্রদিয়া…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জব্বার তালুকদার ভদ্রদিয়া গ্রামের একজন বিত্তবান লোক। প্রতিপত্তির মালিক হওয়ার জন্য গ্রামের সকলেই তাকে বেশ সম্মান করে। অপরদিকে জব্বার তালুকদার সম্মানের চোখে দেখে তারই গ্রামে বসবাসরত আফসার আলীকে। তার উপর জব্বার তালুকদারের অগাধ বিশ্বাস। তাই আফসার আলী মৌখিকভাবে যে নির্দেশনাই দেন জব্বার তালুকদার তা বাস্তবায়নে কুণ্ঠাবোধ করে না। একদিন আফসার আলী জব্বার তালুকদারকে বললেন, “জব্বার, তোমার স্ত্রী সংসারে অশুভ শক্তির ছায়ারূপে বিরাজ করছে। তাকে তুমি অবিলম্বনে তালাক দাও।” এমন নির্দেশনা পেয়ে কালবিলম্ব না করে স্ত্রীকে তালাক দেয়। জব্বার তালুকদার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
লালসালু উপন্যাসে মজিদের উক্তিটি দুই দিকে কাটে।
আওয়ালপুরে আগত পির সাহেব এবং মজিদের তুলনামূলক অবস্থান নির্দেশ করতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
আওয়ালপুরে নতুন পির সাহেবের আগমনে মজিদের প্রতিপত্তি কমে যায়। মজিদের অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়ে যায়। মজিদ স্বচক্ষে আওয়ালপুরের পিরের কার্যাবলি দেখতে এবং নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে গিয়ে হাজির হয় আওয়ালপুরে। তবে সেখানে পিরের প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা দেখে মজিদের নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয়। নিজের গ্রামের মানুষ পর্যন্ত তাকে দেখেও না দেখার ভান করে। এমন অবস্থায় মজিদ পিরকে সূর্যের সাথে এবং নিজেকে প্রদীপের সাথে তুলনা করে নিজের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়াস করেছে।
উদ্দীপকের জব্বার তালুকদার লালসালু উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চরিত্র এর প্রতীক বহন করে।
খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামের সমাজপতি। গ্রামীণ সমাজে এ শ্রেণির মানুষকে মোড়ল বা মাতব্বর বলা হয়ে থাকে, যারা গ্রামীণ মানুষের সকল সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সামন্তবাদী সমাজে ভূমি মালিকদের সাথে ধর্মীয় পুরোহিতদের নিবিড় সখ্য থাকে, যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর উপন্যাসে দেখিয়েছেন। একপক্ষে আছে খালেক ব্যাপারী, অন্যপক্ষের প্রতিনিধি মজিদ।
'লালসালু' উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই। খালেক ব্যাপারী গ্রামের মোড়ল কিন্তু ধর্মীয় পুরোহিত মজিদের কথায় সে পরিচালিত। মজিদের সব কথাকে খালেক ব্যাপারী সমর্থন করেছেন, মজিদের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন নির্দ্বিধায়।
যাও জব্বার তালুকদার মধ্যে ফুটে উঠে।
উদ্দীপকে জব্বার তালুকদারের স্ত্রীর জীবন এবং লালসালু উপন্যাসের আমেনা বিবি এর জীবনের পরিণতি একই।
লালসালু উপন্যাসে আমেনা হচ্ছে খালেক বেপারীর রূপবতী স্ত্রী। কিন্তু রহিমার মত তিনিও নিঃসন্তান। সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে আমেনা বিবি আউয়ালপুরের পীর সাহেবের পানি পড়া খেতে চায়। কিন্তু মজিদ জানতে পেরে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে খালেক ব্যাপারীকে স্ত্রী তালাক দিতে বাধ্য করে।
যেহেতু 'লালসালু' উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই। খালেক ব্যাপারী গ্রামের মোড়ল কিন্তু ধর্মীয় পুরোহিত মজিদের কথায় সে পরিচালিত। মজিদের সব কথাকে খালেক ব্যাপারী সমর্থন করেছেন, মজিদের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে নির্দ্বিধায়।
আমেনা বিবি যৌবনে থোতামুখের তালগাছ দেখে বুঝত যে, সে জামাইয়ের বাড়ি এসে পৌঁছেছে।
ঠিক উদ্দীপকে তেমনি ঘটনা ঘটেছে জব্বার তালুকদারের স্ত্রী সঙ্গে। উদ্দীপকে জব্বার তালুকদার আফসার আলীর প্রতি অন্ধবিশ্বাস রয়েছে সে তার কোন আদেশ পালন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যখন আফসার আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বললেন তখন জব্বার তালুকদার সাথে সাথে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিল।