“যে নদে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিদিন কেটেছি সাঁতার
আমার শরীরে আজও তাহার ঢেউয়ের ছোঁয়া টের পাই
যেন মায়ের আদরমাখা দু’হাতের দোলা।
সুবিশাল আমাজন কিংবা নীলনদের বাহুডোরে
এমন সুস্বাদ স্নেহ পাইনি তো আমি।”
কবি তাঁর রচিত কবিতায় শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদের গুণগান গেয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবির হৃদয়ের পুরোটা জায়গা দখল করে আছে। তাঁর হৃদয়ের আকুলতা তিনি বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করেন কবিতা ও গানে। প্রবাসজীবনে কবি তাঁর রচিত সকল কবিতা ও গানে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষের নামই নিয়েছেন বারবার। কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর এই আকুলতা বঙ্গবাসীর নিকট পৌঁছে দেয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সাথে উদ্দীপকের কবিতাংশ স্মৃতিকাতরতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। কবির জন্ম কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে। শৈশবে লেখক এ নদীতে সাঁতার কেটেছেন। প্রবাস জীবনে তাঁর মনে শৈশবের সেই স্মৃতিকাতরতা জাগিয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি শৈশবের নদের স্মৃতি ভেবে কাতর হয়েছেন। তাঁর কাছে সেই নদ পৃথিবীর সেরা। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নদ-নদী দেখলেও সেই নদের স্নেহ তিনি কোথাও খুঁজে পাননি। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি বহু দেশে বহু নদ দেখলেও স্বদেশের এই নদের মতো কোনোটি তার তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। স্মৃতিকারতার দিক থেকে উভয়েই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উভয় ক্ষেত্রেই স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম ফুটে ওঠায় “উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতা একই চেতনার সৃষ্টি”- আলোচ্য এ মন্তব্যটি যথার্থ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশমাতৃকার প্রতি অকুণ্ঠ প্রেমের সহজাত প্রবৃত্তি ধরা পড়েছে। কবির শৈশব কেটেছে যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের কপোতাক্ষ নদের তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশে। সুদূর প্রবাসে বসেও শৈশবের বেদনাবিধুর স্মৃতি কবির হৃদয়ে কাতরতা জাগিয়েছে।
উদ্দীপকের কবিকণ্ঠেও নদ তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে শৈশব কাটানোর স্মৃতিকাতরতার দিকটি ধ্বনিত হয়েছে। কবি তাঁর শরীরে এখনও শৈশবের নদের ছোঁয়া টের পান। বহু দেশে বহু নদ-নদী দেখলেও কোনোটিই কবির স্নেহকাতরতা নিবারণ করতে পারেনি, যা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির স্নেহকাতরতার সাথে সাদৃশ্যব্যঞ্জক।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি দূরে বসেও কপোতাক্ষ নদের কথা ভেবে কাতর হয়েছেন। বহু দেশে বহু নদ-নদী দেখলেও কোনোটিই স্বদেশের নদের সঙ্গে স্নেহাদরে বাঁধতে পারেনি কবিকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' উভয় ক্ষেত্রেই স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
