| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘যে পথে গিয়েছে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার
আজো রবীন্দ্রনাথ, বেদব্যাস, খৈয়াম, হাফিজ,
সুকান্ত-মিল্টন-শেলী অকাতরে ঢেলে মনসিজ
সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার তোমার ।
হে মন, প্রফুল্ল হও। শোনো তার মৃত্যুহীন গান
মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
'নিরন্তর' শব্দের অর্থ নিয়ত বা অবিরাম।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের ক্ষতিসাধন করতে সর্বদা ব্যাপৃত থাকে। তারা কখনো অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। তারা অন্যের অপকার করতে গিয়ে মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। এমন ক্ষতিকর মানুষ কবিরও ঘর ভাঙে। এতে কবির অপকার হলেও তিনি মনে কোনো ক্ষোভ রাখেন না। বরং কবির ঘর যে ভেঙেছে, কবি তার ঘর প্রস্তুত করে দেন। এর মাধ্যমে কবির উদার ও ক্ষমাশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার কথা বলেছেন। কবির মতে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে এই পৃথিবীতে কেউ আসেনি। আমরা সবাই সবার জন্য নিয়োজিত। সবারই নিজ স্বার্থ ভুলে পরার্থে কাজ করা উচিত। 'প্রতিদান' কবিতায়ও এই বিষয়টি লক্ষণীয়। কবি নিজের স্বার্থ ভুলে অন্যের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তিনি দিন-রাত সেসব মানুষের জন্য ব্যাকুল হন যারা কবিকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে। কবি মনে করেন অন্যের জন্য আত্মত্যাগ করাই মানবজীবনের উদ্দেশ্য। তাই তো যে ব্যক্তি কবির ঘর ভাঙে, কবি তারই ঘর বাঁধতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন; যে কবিকে আঘাত করে, কবি তার জন্যই কেঁদে বেড়ান । এমনকি কাঁটা পেয়েও তাকে ফুল দান করেন।
উদ্দীপকে সকল মহৎ ব্যক্তিদের মানকল্যাণে মৃত্যুহীন গান গেয়েছেন তাই বলা হয়েছে।
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
“উদ্দীপকের 'এই শান্তি তোমার আমার' ও 'মানুষ সকল সত্য' অংশই 'প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য।"। - উদ্ধৃতিটুকু যথার্থ হয়েছে।
মানুষকে সাহায্য করাই প্রকৃত মানুষের ধর্ম। যুগ যুগ ধরে মানুষ একে অন্যকে সাহায্য করে আসছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর তাই আমাদের সবারই অন্যকে সাহায্য করার মতো মানবিক গুণাবলি অর্জন করা উচিত ।
উদ্দীপকে মহৎ ব্যক্তি যেমন কালিদাস, দান্তে ও হোমার, রবীন্দ্রনাথ, বেদব্যাস, খৈয়াম, হাফিজ,
সুকান্ত, মিল্টন, শেলী এদের কথা বলা হয়েছে যারা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন। এটাই তাদের শান্তি।
'প্রতিদান' কবিতায় সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েও কবি প্রতিশোধপরায়ণ নন বরং তাঁর কণ্ঠে সর্বত্র প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি শত্রুর আঘাত বুকে নিয়েও প্রতিঘাত করেন না। কষ্ট পেয়ে তিনি ফুল দান করেন । 'মানুষই সকল সত্য' এই কথায় অটল থেকেছেন।
কবির এই উদার মানবিকতা ও মানসিকতার প্রতিফলন উদ্দীপকে অনুরূপভাবে লক্ষ করা যায়।
তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের 'এই শান্তি তোমার আমার' ও 'মানুষ সকল সত্য' অংশই 'প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য।"। - উদ্ধৃতিটুকু যথার্থ হয়েছে।