| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া এক বিশেষ ধরনের জৈব প্রভাবক দ্বারা ত্বরান্বিত হয়। এই প্রভাবকগুলো প্রোটিন দিয়ে তৈরি এবং এরা তাপ ও pH এর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এদের কাজের ধরন অনেকটা ‘তালা ও চাবি’ (Lock and Key) মতবাদের সাথে তুলনা করা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
জীবের রাসায়নিক উপাদানগুলোর মধ্যে দুটি প্রধান উপাদান কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন।
এনজাইমের কার্যপদ্ধতি: এনজাইমের কাজের মূলনীতি হলো
Induced fit মডেল। প্রথমে সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থানে বা অ্যাকটিভ সাইটে যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে এবং পরে তা ভেঙে গিয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয়, আর এনজাইম অপরিবর্তিতভাবে পৃথক হয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব প্রভাবক হলো এনজাইম। এনজাইম প্রধানত প্রোটিনধর্মী। এনজাইমের কার্যকারিতা pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এরা তাপ প্রবণ, অধিক তাপে এনজাইম বিনষ্ট হয়ে যায়। গঠন অনুসারে এনজাইমসমূহকে ২ ভাগে শ্রেণিবিন্যস্ত করা যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সরল এনজাইম: যে এনজাইমের সম্পূর্ণ অংশই শুধু প্রোটিন দিয়ে গঠিত তাকে সরল এনজাইম বলে। যেমন- সুক্রেজ, অক্সিডেজ।
২. যৌগিক বা সংযুক্ত এনজাইম: যে এনজাইমের প্রোটিন অংশের সাথে একটি অপ্রোটিন অংশ যুক্ত থাকে তাকে যৌগিক এনজাইম বা কনজুগেটেড এনজাইম বলে। যেমন- FAD, NAD।
'তালা ও চাবি' মতবাদের আলোকে উদ্দীপকে নির্দেশিত এনজাইম প্রভাবকের ক্রিয়াকৌশল বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো নির্দিষ্ট এনজাইমের এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা অ্যাকটিভ সাইট থাকে। Emil Fischer অ্যাকটিভ সাইট প্রস্তাব করেন। পলিপেপটাইড চেইনের ফোলডিং এর মাধ্যমে অ্যাকটিভসাইট সৃষ্টি হয়। অ্যাকটিভ সাইট ও সাবস্ট্রেটের মধ্যে সম্পর্ক তালা চাবির মতো সুনির্দিষ্ট।
১. প্রথমে সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থান তথা অ্যাকটিভসাইটে সংযুক্ত হয়ে এনজাইমে সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙে গিয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং এনজাইম অপরিবর্তিতভাবে পৃথক হয়ে যায়।
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত শক্তির দরকার হয়। এ অতিরিক্ত শক্তিকে কার্যকরী শক্তি বলে। এনজাইম-সাবস্ট্রেটের কার্যকরী শক্তি কম। তাই কম কার্যকরী শক্তিসম্পন্ন সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সাথে যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে, ফলে বিক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। এভাবে এনজাইমের ক্রিয়া সমাপ্ত হয়।