| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবের মধ্যে বিদ্যমান…’ a – জীবমণ্ডল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবের মধ্যে বিদ্যমান সকল প্রকার বৈচিত্র্যময়তা জীববৈচিত্র্য। কতিপয় কারণে জীববৈচিত্র্য সংঘটিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
জীববৈচিত্র্য ৩ প্রকার।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাস সৃষ্টির মূল কারণ জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সেই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান। মূলত পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেই সমগ্র পৃথিবীব্যাপী জীবজগতের এ বিচিত্রতা লক্ষণীয়। বিশেষ করে কোনো স্থানে ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ুর ওপর জীববৈচিত্র্য নির্ভরশীল। কোনো অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী কেমন হবে তা নির্ভর করে মাটির প্রকৃতি, নদনদী, মরুভূমি, পাহাড় পর্বত প্রভৃতির ওপর। সুতরাং বলা যায় উল্লিখিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করেই জীববৈচিত্র্য সংঘটিত হয়।
জীনগত বৈচিত্র্য ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের মধ্যে পার্থক্য উপস্থাপন করা হলো-
⦿ জীনগত বৈচিত্র্য একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত জীবের মধ্যে বিরাজিত পার্থক্যের জন্য উক্ত প্রজাতির জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্যের উদ্ভব হয়। পক্ষান্তরে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিরাজমান বৈচিত্র্যতাকে বোঝায়।
⦿ জীনগত বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলভিত্তিক একই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে আকার, আকৃতি ও গঠনগত পার্থক্য বিদ্যমান। পক্ষান্তরে ভিন্ন প্রজাতির জীব হওয়া সত্ত্বেও প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের কারণ একই অঞ্চলে বসবাস করছে।
⦿ জীনগত বৈচিত্র্যের প্রাণীদের ক্রোমোজোম, জীনসংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য একই। পক্ষান্তরে প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের প্রাণীদের ক্রোমোজোম, জীনসংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।
সুতরাং বলা যায় যে, জীনগত বৈচিত্র্য ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এরা সবাই জীববৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্ত।
জীববৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাস উপযোগী ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, বাস্তুসংস্থানগত প্রভৃতির প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী যে বৈচিত্র্যতার সৃষ্টি হয় তাকে বোঝায়।
পৃথিবীর এক এক অঞ্চলে এক এক ধরনের উদ্ভিদ জন্মে, এক এক ধরনের প্রাণীর আবাসস্থল গড়ে উঠে। প্রতিটি অঞ্চলেই মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী বসবাস করে। যদিও তাদের প্রজাতি, জীনগত কোনো পার্থক্য নেই তথাপিও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এক এক অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বাহ্যিক আচার-আচরণ, দৈহিক গঠন প্রভৃতির মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিগত, জলবায়ুগত পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে। এ ভিন্নধর্মী বাস্তুতন্ত্র থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে বৈচিত্র্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কারণে এসব বাস্তুসংস্থানের কোন উপাদানের হ্রাস ঘটে তাহলে ঐ বাস্তুসংস্থানের স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হয় যার ফলে জীববৈচিত্র্যতার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে। জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমার নিজস্ব যুক্তি হচ্ছে জীব সম্প্রদায়ের একে অপরের সাথে আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ুগত তারতম্যের কারণে বিশ্বব্যাপী এ জীবসম্প্রদায় ও উদ্ভিদকুলের মধ্যে বৈচিত্র্যতা প্রকাশ পেয়েছে যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নিরক্ষীয় অঞ্চলে উত্তাপ বেশি তাই বৃষ্টিপাত হয় এবং ঐ অঞ্চলে অধিক লম্বাযুক্ত বনভূমি গড়ে উঠেছে। আবার, মেরু অঞ্চলের দিকে ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় ঐ অঞ্চলে বড় বড় লম্বাযুক্ত পাতাবিশিষ্ট গাছ জন্মাতে পারে না। আবার, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান বনে যে ধরনের বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে ঐ রকম বাস্তুসংস্থান আবার এশিয়ার দক্ষিণে দেখা যায় না। এখানে অন্য রকম বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে।
সুতরাং ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুগত তারতম্য প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে জীব ও উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা তাই জীববৈচিত্র্যতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।