| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবগোষ্ঠী ‘A’: স্বভোজী…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবগোষ্ঠী ‘A’: স্বভোজী তবে স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট কখনও বহুকোষী ভূণে পরিণত হয় না।
জীবগোষ্ঠী ‘B’: পরভোজী বা মিথোজীবী এবং কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
শৈবালের নির্দিষ্ট সংখ্যক কোষ, নির্দিষ্ট রীতিতে বিন্যস্ত থেকে কলোনী গঠন করলে উক্ত কলোনীই হলো সিনোবিয়াম।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে থাকা দূষিত ও বিষাক্ত পদার্থকে জীবাণু বা অন্যান্য জীবের সাহায্যে ভেঙে পরিবেশবান্ধব রূপে পরিণত করা হয় তাকে বায়োরিমেডিয়েশন বলে। যেমন- তেল দূষিত সমুদ্রে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দিয়ে সেটিকে ভেঙে দূষণ পরিষ্কার করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত A হলো শৈবাল। ক্লোরোফাইসি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত শৈবাল হলো Ulothrix, যা শৈবালের জীবগোষ্ঠীভুক্ত একটি সদস্য। নিচে Ulothrix এর অযৌন জনন বর্ণনা করা হলো:
জুস্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে Ulothirx-এর অযৌন জনন সম্পন্ন হয়। কখনো কখনো অ্যাপ্ল্যানোস্পোর সৃষ্টির মাধ্যমেও অযৌন জনন হয়ে থাকে। জুস্পোরগুলো সাধারণত চার ফ্লাজেলাযুক্ত। যে কোষ হতে জুস্পোর উৎপন্ন হয় তাকে জুস্পোরাঞ্জিয়াম বলে।
প্রজাতির উপর নির্ভর করে প্রত্যেক জুস্পোরাঞ্জিয়াম হতে ১-৩২ টি জুস্পোর সৃষ্টি হয়। একটিমাত্র জুস্পোর সৃষ্টি হলে কোষের সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাস্টই একটি জুস্পোরে রূপান্তরিত হয়। একাধিক জুস্পোর উৎপন্ন হলে জুস্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট একটু সংকুচিত হয় এবং লম্বালম্বি দু'ভাগে বিভক্ত হয়। প্রজাতির উপর নির্ভর করে ৩২টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি পর্যন্ত এ বিভাজন চলতে থাকে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট তখন চার ফ্লাজেলাযুক্ত জুস্পোরে রূপান্তরিত হয়। সরু কোষের প্রজাতি হতে সৃষ্ট সকল জুস্পোর একই প্রকার হয় কিন্তু মোটা কোষের প্রজাতি হতে দু'রকম জুস্পোর উৎপন্ন হয়। (১) ক্ষুদ্রাকৃতির বা মাইক্রোজুস্পোর এর আইস্পট মধ্যখানে থাকে এবং একটি জুস্পোরাঞ্জিয়াম হতে ৮ ৩২ টি জুস্পোর উৎপন্ন হয়। (২) বৃহদাকৃতির বা মেগাজুস্পোর এর আইস্পট সম্মুখভাবে থাকে এবং একটি জুস্পোরাঞ্জিয়াম হতে ১- ৪টি জুস্পোর উৎপন্ন হয়। একটি ভেসিকলের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় জুস্পোরগুলো জুস্পোরাঞ্জিয়াম প্রাচীরের গায়ে উৎপন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে আসে এবং ভেসিকলের অবলুপ্তির পর এরা মুক্তভাবে ভেসে বেড়ায়। ২ - ৬ দিন সন্তরণের পর জুস্পোরের ফ্ল্যাজেলাযুক্ত মাথাটি কোনো জলজ বস্তুর সাথে আবদ্ধ হয়। আবদ্ধ হওয়ার পর এরা আস্তে আস্তে ফ্লাজেলাবিহীন হয়, এর চারদিকে আস্তে আস্তে প্রাচীর গঠন করে এবং ক্রমে দীর্ঘ হয় ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন Ulothirx ফিলামেন্ট সৃষ্টি করে।
প্রতিকূল পরিবেশে জুস্পোরগুলো জুস্পোরাঞ্জিয়াম হতে নির্গত হয় না, চারিদিকে প্রাচীর তৈরি করে অ্যাপ্ল্যানোস্পোরে পরিণত হয়। কখনো কোনো একটি কোষের সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাস্ট গোলাকার হয় এবং পুরু প্রাচীর গঠন করে অ্যাকাইনিটিতে পরিণত হয়। অনুকূল পরিবেশে পুরু প্রাচীর বিদীর্ণ করে বের হয়ে আসে এবং অঙ্কুরায়ন ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ফিলামেন্টে পরিণত হয়। এভাবে Ulothirxএর অযৌন জনন ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবগোষ্ঠী B হলো ছত্রাক। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ভূমিকা দেখা যায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ইতিবাচক ভূমিকা: পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। Claviceps purpurea ছত্রাক থেকে ergot তৈরি হয় যা ঔষুধ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে সন্তান প্রসবের পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে। মৃত্তিকাবাসী ছত্রাক Tolypocladium sp. থেকে সাইক্লোস্পোরিন নামক ঔষধ তৈরি হয় যা মানুষের যেকোনো অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। Aspergillus ছত্রাক থেকে স্টেরয়েড পাওয়া যায়। এটি আর্থ্রাইটিস নিরাময় করে। মাশরুম ডায়াবেটিস কমাতে দারুন ক্ষমতা রাখে। আবার ছত্রাকের বহুমুখী ব্যবহার কৃষিতেও দেখা যায়। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ছত্রাক অবদান রাখে। এক একর উর্বর জমির উপরের ৮ ইঞ্চি মাটিতে এক টন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। মৃত জীবদেহ ও জৈব বর্জ্য পচনের মাধ্যমে জৈব সার তৈরিতে ছত্রাকের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
নেতিবাচক ভূমিকা: Aspergillus, Mucor, Rhizopus, Cercospora প্রভৃতি ছত্রাক মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। Microporium ছত্রাকের আক্রমণে মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাকের সৃষ্টি হয়। Trichophyton rubrum নামক ছত্রাকের আক্রমণে মানুষের দাদ রোগ হয়। Mucor ও Rhizopus গণের কোনো কোনো প্রজাতি মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও খাদ্য নালিতে জাইগোমাইকোসিস নামক রোগ সৃষ্টি হয়। যক্ষ্মার মতো ফুসফুসের Coccidiomycosis নামক রোগ হয় এক প্রকার স্যাক ফাংগাস দিয়ে। Candida albicans নামক ছত্রাক মুখ, নাক, গলা ইত্যাদি স্থানের মিউকাস ঝিল্লির ক্ষতি সাধন করে। Mucor septicus নাক, মুখ, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটায়। ২০২১ সালে ভারতে কোভিড-১৯ আক্রমণের পরপর এ ছত্রাক আক্রমণের বিস্তার ঘটেছিল। আবার, পরজীবী ছত্রাক আবাদি ফসলের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। ব্লাইট, ব্লাস্ট, মিলডিউ ইত্যাদি উদ্ভিদ রোগের কারণ বিভিন্ন ছত্রাক। আলুর বিলম্বিত ধ্বসা (লেট ব্লাইট) রোগের কারণে ১৮৪৩ -১৮৪৭ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে আলু ক্ষেতের ফলন প্রায় সম্পূর্ণটাই নষ্ট হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, চিকিৎসা ও কৃষিতে ছত্রাকের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।