| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবনানন্দ দাশ বাংলার…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৬ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবনানন্দ দাশ বাংলার ‘রূপসী বাংলা’র কবি নামে খ্যাত। আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় কবি নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। বাংলার আকাশ-বাতাস, বাংলার হাওয়া-জল, বৃক্ষ-লতাপতা, পাখি-ফুল, বাংলার নদী-নালা-সাগর এমন নিবিড়ভাবে আর কোনো কবি ধরতে পারেননি। তার কবিতায় মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রাবল্য। তাঁর কাব্যভাষা বিস্ময়কর। তাঁর সমকালে অনেক বোদ্ধা সমালোচক তাঁর কবিতাকে কেটেকুটে পোস্টমর্টেম করে তাঁর কবিতার সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করেছেন। সেই সমালোচকরা হারিয়ে গেছেন অথচ জীবনানন্দ দিনকে দিন পাঠকের কাছে সমাদৃত হচ্ছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
রোঁদ্যা একজন বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর।
"কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা"- কারণ গভীর অনুভূতির তীব্রতা পাঠককে আনন্দ দিলেও তা প্রায়শই বেদনাবোধ জাগিয়ে তোলে।
সাহিত্য রচিত হয় সাহিত্যিকের নিজের মনের আনন্দ থেকে এবং এই আনন্দ পাঠকমনেও সঞ্চারিত হয়। কিন্তু পাঠক সমাজের কাছে নির্দিষ্ট সাহিত্যকর্মের কদর দীর্ঘদিন যাবৎ থাকে না। কেননা পাঠকসমাজের মনে আনন্দ লাভের পরই বেদনাবোধ সঞ্চারিত হয়, যা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে প্রাবন্ধিকের মতে, এতে সাহিত্যকদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। কেননা আনন্দ ও বেদনা একে অপরেরই পরিপূরক।
উদ্দীপকে সমালোচক 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের নিকটতম প্রতিনিধি।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্য রচনার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের মনে আনন্দদান ও সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে রচিত হয় সাহিত্য। এর বাইরে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রচিত হলে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত।
উদ্দীপকের রূপসী বাংলার কবি খ্যাত জীবনানন্দ দাশ আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। বাংলার অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য তার মতো নিবিড়ভাবে আর কোনো কবি ধারণ করতে পারেননি। তারপরও তাঁর সমকালের অনেক সমালোচক তাঁর কবিতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। আবার, সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিনি মত প্রদান করেছেন। সর্বোপরি সাহিত্য রচনার নানা দিক আলোচনাপূর্বক তিনি সাহিত্য আদর্শ ও উদ্দেশ্য বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। উদ্দীপকের সমালোচকও জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সমালোচক 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকেরই নিকটতম প্রতিনিধি।
"উদ্দীপকের মূলভাবটি যেন 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেরই অনুরণন”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধানুসারে, সাহিত্যের জগৎ মূলত নিছক আনন্দের জগৎ। মহৎ কবির সৃষ্টি সর্বজনীন আবেদনে পরিপূর্ণ। তার মানবসত্তা প্রতিনিয়তই বিশ্বমানব সত্তা ও সভ্যতার সাথে নিত্যনতুন সংযোগ সাধনের সেতু নির্মাণ করে।
উদ্দীপকে জীবনানন্দ দাশ বাংলার নিসর্গ সৌন্দর্যকে যেরূপ ধারণ করতে পেরেছেন, তা আর কোনো কবি পারেননি। তাঁর কবিতায় মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রাবল্য অধিক। ফলে সমালোচকরা তাঁর কবিতার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করলেও তিনি দিন দিন পাঠকের কাছে সমাদৃত হচ্ছেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, নিছক আনন্দদানের উদ্দেশ্যে যে সাহিত্যকর্ম রচিত হবে, তা গুণগত মান হারাবে না। পাঠকের অনিচ্ছায় কিংবা অবহেলায় সেসব সাহিত্যকর্ম কালের গর্ভে বিলীন হবে না।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হিসেবে কেবল আনন্দদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। কেননা ব্যক্তির মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্যকর্ম রচিত হলে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। উদ্দীপকের জীবনানন্দ দাশ সমালোচকদের সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজ কাব্যভাষায় সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন। এতে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মনোরঞ্জন না হলেও, পাঠকসমাজে তিনি দিন দিন সমাদৃত হয়েছেন। কেননা তাঁর কাব্য কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্য রচিতা না হয়ে সাহিত্যের প্রকৃত আদর্শ মেনেই রচিত হয়েছে। যা আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের নির্দেশিত পথেরই অনুরূপ। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।