| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”জীবনের আতিশয্যে যাহারা…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“জীবনের আতিশয্যে যাহারা দারুণ উগ্র সুখে
সাধ করে নিল গরল-পিয়ালা, বর্শা হানিল বুকে!
আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব-সম কোনো বাধা মানিল না,
বর্বর বলি যাহাদের গালি পাড়িল ক্ষুদ্রমনা,
কূপ-মণ্ডুক ‘অসংযমী’র আখ্যা দিয়াছে যারে,
তারি তরে ভাই গান রচে যাই, বন্দনা করি তারে।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
বিপদ মোকাবিলায় তরুণ প্রাণের এগিয়ে আসার বিষয়টি এখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে।
আঠারো বছর বয়স স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। তাই সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে, নিত্যনতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ প্রাণ এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে। তারা দেশ ও জনগণের মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তরুণরা শুভ, সুন্দর ও কল্যাণের জন্য প্রাণ দিতে সদা প্রস্তুত থাকে। সমস্ত বিপদ মোকাবেলায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়ায়। যেকোনো অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে এ বয়সের তরুণরা পিছপা হয় না। প্রবল প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে সমস্ত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পারে অভীষ্ট লক্ষ্যে।
উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো তারুণ্য ও জীবনের জয়গান।
তরুণদের রয়েছে অমিত প্রাণশক্তি ও সাহস। সেই সাহস ও শক্তির বলে তারা অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেখাতে পাত্রে। তাদের ত্যাগ ও কল্যাণধর্মী মনোভাব দেশ ও জাতির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তারুণ্যের এসব গুণ দেশ ও জাতির জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি দেশ ও দশের কল্যাণে আত্মোৎসর্গকারীদের জয়গান করেছেন। কেননা এমন কষ্টসহিষ্ণু, দুঃসাহসী ও আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের জন্যই মানবসভ্যতা এতটা অগ্রসর হতে পেরেছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও কবি তারুণ্যের সৎসাহস, অমিত সম্ভাবনা ও আত্মত্যাগী মনোভাবকে প্রত্যক্ষ করে এই বয়সের জয়গান করেছেন। শুধু তাই নয়, কবিতাটিতে তিনি তারুণ্যকে প্রত্যাশা করেছেন দেশের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে, যা উদ্দীপকের কবিতাংশে উল্লিখিত মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গকারীদের জয়গানের দিকটিকেই তুলে ধরে। আর এটিই উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের জয়গানের পাশাপাশি এর নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকলেও উদ্দীপকে এ কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এ বয়সের তরুণদের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের উদ্যমী মনোভাবকে তুলে ধরেছেন। তারা নতুনত্বের ধারক। এজন জড়-স্থবির বার্ধক্য তাদের ওপর নানা কুৎসা চাপিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না। এসব বাধা সত্ত্বেও তারা এগিয়ে চলে প্রগতির পথে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও কবি তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। তারা অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রগতির পথে এগিয়ে চলতে পারে। এজন্য তারা সকল প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে চলে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত অমীয় শক্তির আধার তারুণ্যের জয়গানের দিকটি ফুটে উঠলেও এ কবিতার অন্যান্য দিকগুলো এখানে অনুপস্থিত। এ বয়সের তরুণদের মনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক নানা মন্ত্রণা আসে। ভালো-মন্দ, নানা তত্ত্ব, মতবাদের সঙ্গে পরিচিত হয় এ বয়সের তরুণেরা। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তাকে দুঃসহ ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। সীমাহীন যন্ত্রণা তাকে দগ্ধ করে। উদ্দীপকে এ কবিতার আলোচ্য দিকগুলো অনুপস্থিত হওয়ায় উদ্দীপকে এ কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।