| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবজগতে এক ধরনের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবজগতে এক ধরনের প্রাককেন্দ্রিক অণুজীব ‘A’ রয়েছে। যাদের কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান পেপটিডোগ্লাইকান। ‘A’ কে পোষক হিসেবে ‘ব্যবহার করলে ফায ভাইরাসের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন ধরনের জীবনচক্র দেখা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকেই জনুক্রম বলে।
ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র সম্পন্ন করতে যৌন ও অযৌন চক্র পারস্পরিকভাবে জড়িত। আবার, এ চক্র দুটি একটি পোষকদেহে সম্পন্ন হয় না। পরজীবীটি মশকীয় দেহে যৌন জনন এবং মানুষের দেহে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। সুতরাং, পরজীবীটির পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্যই দুটি পোষক প্রয়োজন।
উদ্দীপকে 'A' অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া, কারণ এর কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো পেপটিডোগ্লাইকান। ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া হলো দ্বি-বিভাজন। এই প্রক্রিয়ায় একটি একক ব্যাকটেরিয়াল কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি অভিন্ন অপত্য কোষ তৈরি করে। প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিত উপায়ে সম্পন্ন হয়-
১. ব্যাকটেরিয়াল ক্রোমোসোম তথা DNA ব্যাকটেরিয়া কোষের দুই প্রান্তের মাঝামাঝি আরসালত নেয় এবং প্লাজমামেমব্রেনের সাথে সংযুক্ত হয়।
২. প্লাজমামেমব্রেনের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া কোষের DNA-অণুর প্রতিলিপন ঘটে।
৩. এ অবস্থায় কোষটি লম্বায় বৃদ্ধি পায়। কোষ প্রাচীর এবং প্লাজমামেমব্রেনের বৃদ্ধি কোষের দুই প্রান্তের মাঝখানে ঘটে থাকে।
৪. কোষ প্রাচীর ও প্লাজমামেমব্রেন লম্বায় বৃদ্ধির কারণে DNA রেপ্লিকা দুটি দুই দিকে পৃথক হয়ে যায়।
৫. লম্বায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কোষের মাঝখানে প্লাজমামেমব্রেন ক্রমশ ভেতরের দিকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে এবং একই সাথে ঐ অংশে কোষ প্রাচীর সংশ্লেষিত হতে থাকে। এক সময় একটি কোষ দুটি অপত্য ব্যাকটেরিয়া কোষে পরিণত হয়।
৬. শেষ পর্যায়ে টার্গার প্রেসারের কারণে নতুন সৃষ্ট অপত্য ব্যাকটেরিয়া কোষ দুটি পরস্পর হতে পৃথক হয়ে যায়।
উদ্দীপকের A অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। ফায ভাইরাস যা ব্যাকটেরিওফায নামে পরিচিত। উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো ব্যাকটেরিয়াকে পোষক হিসেবে ব্যবহার করলে ফায ভাইরাসের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন ধরনের জীবনচক্র লাইটিক চক্র এবং লাইসোজেনিক চক্র দেখা যায়। নিচে বাক্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১ . লাইটিক চক্র: এই চক্রে ফায ভাইরাস প্রথমে ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরে সংযুক্ত হয় এবং তার জেনেটিক উপাদান (DNA) ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করায়। এরপর ফাযের DNA ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে নিজের অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটায়। নতুন তৈরি হওয়া ভাইরাসের উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে নতুন ফায ভাইরাস গঠন করে। সবশেষে ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর বিদীর্ণ হয়ে নতুন ভাইরাসগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে, যা অন্য ব্যাকটেরিয়া কোষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া কোষ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
২. লাইসোজেনিক চক্র: এই চক্রে ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে না, বরং ব্যাকটেরিয়ার সাথে সহাবস্থান করে। ফায ভাইরাস তার DNA ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করানোর পর, এই DNA ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব DNA-এর সাথে একত্রিত হয়ে প্রোফায গঠন করে। এই প্রোফায ব্যাকটেরিয়ার DNA-এর অংশ হিসেবে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া বিভাজিত হলে এর সাথে প্রতিলিপিত হয়ে অপত্য কোষে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিকূল পরিবেশে প্রোফায সক্রিয় হয়ে লাইটিক চক্রে প্রবেশ করে এবং নতুন অপত্য ফায গঠন করে।