| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীবজগতে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীবজগতে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরিত হয় একটি জৈব অণুর মাধ্যমে। জীবের কোষবিভাজনের অন্যতম পূর্বশর্ত উক্ত জৈব অণুটির একটি থেকে দুটিতে পরিণত হওয়া। এ জৈব অণুটির সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুর গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
কোষ প্রাচীরে সেলুলোজ অণুগুলো সমান্তরালে পাশাপাশি বিন্যস্ত হয়ে যে সূত্র গঠিত হয় তাকে মাইসেলি বলে।
DNA-এর নিউক্লিওটাইডে থাকে ৪ ধরনের নাইট্রোজেনাস বেস। বেসগুলো হলো অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) এবং থাইমিন (T)। DNA অণুতে তিনটি বেস পাশাপাশি অবস্থান করে মিলিতভাবে একটি জেনেটিক কোড তৈরি করে। প্রত্যেকটি কোড ২০ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিডের যে কোন একটিকে নির্দেশ করে। DNA অণুতে পর্যায়ক্রমিকভাবে সাজানো প্রতি ৩টি নিউক্লিয়োটাইড-এর মধ্যে একটি গোপন কোড/বার্তা/সংকেত নিহিত থাকে। এই গোপন সংকেত যখন mRNA ট্রান্সক্রাইব হয় তখন DNA থেকে mRNA-তে চলে আসে। DNA এর ৩টি নিউক্লিয়োটাইডের বিপরীতে ৩টি কমপ্লিমেন্টারি নিউক্লিয়োটাইড mRNA-তে সজ্জিত হয়। এই ৩টি কমপ্লিমেন্টারি নিউক্লিয়োটাইডকে একত্রে ট্রিপলেট বলা হয়। আর mRNA অণুর এই ট্রিপলেটকে ট্রিপলেট কোডন বলে।
উদ্দীপকে আলোচিত জৈব অণুটি একটি DNA। DNA-এর একটি থেকে দুটিতে পরিণত হওয়ার পদ্ধতি আলোচনা করা হলোঃ
যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA থেকে তার প্রতিরূপ দুটি DNA উৎপন্ন হয় তাকে DNA রেপ্লিকেশন বলে। কোষ চক্রের S ধাপে DNA-এর রেপ্লিকেশন সম্পন্ন হয়। DNA অণুর রেপ্লিকেশন হয়ে থাকে অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে অর্থাৎ নতুন সৃষ্ট ডাবল হেলিক্স-এর একটি হেলিক্স থাকবে পুরাতন এবং একটি হেলিক্স হবে নতুনভাবে সৃষ্ট।
DNA অণুর রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ : প্রকৃত কোষে DNA রেপ্লিকেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। অর্ধ-সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়ায় DNA রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ নিম্নরূপ :
ধাপ-১ : ডাবল হেলিক্স-এর দুটি স্ট্র্যান্ডকে একক স্ট্র্যান্ড-এ পৃথকীকরণ:
রেপ্লিকেশন শুরু হওয়ার জন্য DNA অণুর দুটো স্ট্র্যান্ডকে অবশ্যই একটি থেকে অপরটি পৃথক হতে হবে।
(i) প্রথমে হেলিকেজ এনজাইম অরি-তে সংযুক্ত হয়ে ডাবল হেলিক্স-এর প্যাচ খুলতে শুরু করে এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙ্গে DNA অণুর স্ট্র্যান্ড দুটিকে প্যাচমুক্ত ও পৃথক করে দেয়।
(iii) পৃথককৃত স্ট্র্যান্ড দুটিতে সংযুক্ত হয়ে যায় এবং এদের মাঝে পুনরায় হাইড্রোজেন বন্ড তৈরি হতে দেয় না।
(iv) রেপ্লিকেশনের জন্য পৃথক হওয়া প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ (template) হিসেবে ব্যবহৃত হয় । রেপ্লিকেশন অরিজিন থেকে হেলিকেজ এনজাইম DNA সূত্রের উভয় দিকে দুটি স্ট্র্যান্ডকে পৃথক করে থাকে।
ধাপ-২ : সম্পূরক স্ট্র্যান্ড তৈরিঃ
(i) DNA Polymerases প্রতিটি ছাঁচ স্ট্র্যান্ডের কমপ্লিমেন্টারি নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে রেপ্লিকেশনের কাজ করে থাকে ।
(ii) রেপ্লিকেশনের জন্য রেপ্লিকেশন ফর্ক তৈরি হলে সেখানে কেবলমাত্র দুটি পুরাতন স্ট্র্যান্ড থাকে যা নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(iii) RNA Primase একটি রেপ্লিকেশন এনজাইম যা RNA প্রাইমার তৈরি করে থাকে। এ এনজাইম পুরাতন একটি স্ট্র্যান্ডকে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করে রেপ্লিকেশন ফর্কের কাছে একটি ক্ষুদ্র কমপ্লিমেন্টারি RNA সূত্র তৈরি করে দেয়।
(iv) DNA Polymerase- এনজাইম ছাঁচের একটি কমপ্লিমেন্টারি নিউক্লিওটাইড এনে RNA প্রাইমারের ৩'-প্রান্তে সংযুক্ত করে নতুন DNA স্ট্র্যান্ড তৈরির সূচনা করে এবং রেপ্লিকেশন কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটির পর একটি নিউক্লিওটাইড সংযুক্তি চলতে থাকে।
(v) নতুন যে সূত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে ফর্ক-এর দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় লিডিং সূত্র (leading strand)। আর যে সূত্রটি রেপ্লিকেশন ফর্ক-এর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় ল্যাগিং সূত্র।
(vi) লিডিং সূত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে অগ্রসর হওয়ার কারণে ল্যাগিং সূত্রে জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারি তৈরি হয়। জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারিটি একটু লম্বা হলে প্রাইমেজ এনজাইম কার্যকরী হয় এবং একটি প্রাইমার তৈরি করে অনুলিপন কাজ শুরু হয়।
(vii) DNA অণুর রেপ্লিকেশনে ল্যাগিং সূত্রের খণ্ড খণ্ড বিচ্ছিন্ন অংশকে লাইগেজ এনজাইম মধ্যকার গ্যাপকে সংযুক্ত করে নতুনভাবে সৃষ্ট অংশকে নিরবচ্ছিন্নতা দান করে।
(viii) একই সাথে DNA ডাবল হেলিক্স-এর বিভিন্ন স্থানে রেপ্লিকেশন কার্য শুরু হওয়াতে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপূর্ণ ডাবল হেলিক্সটিই রেপ্লিকেটেড হয়ে দুটি ডাবল হেলিক্স-এ পরিণত হয় অর্থাৎ প্রতিলিপন সমাপ্ত হয়।
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো এ জৈব অণুটির সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুর গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। এখানে প্রথম জৈব অণুটি হলো DNA আর রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুটি হলো RNA। DNA ও
RNA এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নে বিদ্যমানঃ
সুতরাং বলা যায় DNA ও RNA এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান, অর্থাৎ উক্তিটি যথার্থ।