জহির সাহেব বাজারে গিয়ে মুলা, গাজর ও ঢেঁড়স কিনলেন। বাজার থেকে বাসায় আসার পথে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গিয়ে পা থেকে প্রচুর রক্ত বের হলো এবং ব্যথায় অস্থির হয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ পকেট থেকে রুমাল বের করে চেপে ধরলেন।
সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর।
মানুষের ত্বকের আবরণী টিস্যু হচ্ছে স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ভিত্তি পর্দার উপর একাধিক স্তরে সজ্জিত থাকে। আবার এমন স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যুও আছে, যার স্তরের সংখ্যা মিনিটের মধ্যে পাল্টে যেতে পারে, কখনো দেখা যায় তিন-চারটি আবার পরক্ষণেই দেখা যায় সাত-আটটি। এ কারণে মানুষের ত্বককে ট্রানজিশনাল আবরণী টিস্যু বলা হয়।
জহির সাহেবের ক্রয় করা সবজিগুলো হলো মুলা, গাজর ও ঢেঁড়স। এগুলোর মধ্যে মুলাতে লিউকোপ্লাস্ট, গাজরে ক্রোমোপ্লাস্ট এবং ঢেঁড়সে ক্লোরোপ্লাস্ট নামক প্লাস্টিড বিদ্যমান। নিচে উল্লেখিত তিন ধরনের প্লাস্টিকের বর্ণনা দেয়া হলো-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা,
কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট : এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থিতিতে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।
৩. লিউকোপ্লাস্ট: যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
জহির সাহেবের পা থেকে বের হওয়া তরল টিস্যুটি হলো তরল যোজক টিস্যু এবং ব্যথা অনুভূত হওয়ার জন্য দায়ী টিস্যুটি হলো স্নায়ুটিস্যু। নিচে তরল যোজক টিস্যু ও স্নায়ুটিস্যুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। এর মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এই টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহণ করা, রোগ প্রতিরোধ করা এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা।
অপরদিকে, স্নায়ুটিস্যু পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা, যেমন তাপ, স্পর্শ, চাপ ইত্যাদি গ্রহণ করে প্রাণিদেহের ভিতরে মস্তিষ্কে বহন করে এবং মস্তিষ্কের বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে থাকে। উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক তাতে সাড়া দেয়। উচ্চতর প্রাণীতে স্নায়ুটিস্যু স্মৃতি সংরক্ষণ করাসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। স্নায়ুটিস্যু প্রাণিদেহের অনৈচ্ছিক পেশিসমূহ যেমন- হৃদপেশি, রক্তনালি, পৌষ্টিকনালি ইত্যাদির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবদেহে তরল যোজক টিস্যু ও স্নায়ুটিস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
