জিম চোখে দেখতে পায় না। পরিবারের অনেকে তাকে ‘কানা’ মনে করে তার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে। জিম নিজেকে বড়ো একা মনে করে। সংসারে সে যেন একটা জীবন্ত অভিশাপ। নিজের মাও তাকে তিরস্কার, গঞ্জনা করতে ছাড়ে না। কিন্তু বাবা মাহমুদ সাহেব জিমকে খুব ভালোবাসেন। তাকে সারাক্ষণ আগলে রাখার চেষ্টা করেন। তার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করেন।
'কিশলয়' শব্দের অর্থ গাছের নতুন পাতা।
গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটির নাম প্রতাপ।
ভাষাবিশিষ্ট জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র বন্ধু প্রতাপ। সে গোঁসাইদের ছোটো ছেলে। সে নিতান্তই অকর্মণ্য বলে বাবা-মা তার ওপর থেকে সর রকম আশা ত্যাগ করেছিল। সে পরিবার-পরিজনের কোনো কাজে না এলেও প্রতিবেশীদের প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যেত। তার প্রধান শখ ছিপ ফেলে মাছ ধরা। বিকেলে প্রায়ই তাকে নদীতীরে এই কাজে নিযুক্ত থাকতে দেখা যেত।
উদ্দীপকের জিম 'সুভা' গল্পের বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতিনিধিত্ব করে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। তাই সে সবার অবহেলার পাত্র। সমবয়সিরা কেউ তার সাথে মিশত না, তাকে খেলতে নিত না। তার মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন।
উদ্দীপকের জিমও 'সুভা' গল্পের সুভার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী তথা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোর। পরিবারের অনেকেই তাকে অবহেলা করে। নিজের মাও তাকে তিরস্কার করে। সে যেন জীবন্ত একটা অভিশাপ হয়ে পৃথিবীতে এসেছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও নিজেকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জিম 'সুভা' গল্পের সুভার প্রতিনিধিত্ব করে।
সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার দিক থেকে "উদ্দীপকের মাহমুদ সাহেব 'সুভা' গল্পের বাণীকণ্ঠের প্রতিরূপ” মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে সুভা তার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে সবার অবহেলার পাত্র। তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করলেও বাবা তাকে তার অন্য দুই বোনের চেয়ে বেশিই ভালোবাসত।
উদ্দীপকের জিমও 'সুভা' গল্পের সুভার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য সবার অবহেলার পাত্র। তার মাও তাকে তিরস্কার, গঞ্জনা করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তার বাবা মাহমুদ সাহেব। সে জিমকে খুবই ভালোবাসেন এবং সারাক্ষণ তাকে আগলে রাখতে চান।
'সুভা' গল্পের সুভার একমাত্র ভালোবাসার আশ্রয় তার বাবা বাণীকণ্ঠ। সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতা যেন বাণীকণ্ঠের মেয়ের প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সুভার মা তাকে সহ্য করতে পারত না। অথচ বাবা তাকে তার অন্য দুই মেয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসত। ঠিক অনুরূপ দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় উদ্দীপকের জিমের বাবা মাহমুদ সাহেবের মানসিকতায়ও। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
