| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জিনতত্ত্ববিদ জনাব ‘M’…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জিনতত্ত্ববিদ জনাব ‘M’ সাদা ও কালো বিড়ালের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে F1 জনুতে সব কালো বিড়াল পেলেন এবং কিছু হলুদ ইদুরের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে F1 জনুতে এক চতুর্থাংশ ইদুর ভ্রূণ অবস্থায় মৃত পেলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ের একটি হলো অপরটির অ্যালিল।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি হচ্ছে সংকর জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টরগুলো (জিনগুলো) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং জননকোষ (গ্যামেট) সৃষ্টির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করে।
বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টরগুলো গ্যামেট সৃষ্টির সময় পৃথক হয়ে যায় বলেই মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বা law of segregation বলা হয়।
উদ্দীপকের জিনতত্ত্ববিদ "M" সাহেব হলুদ ইঁদুরের মধ্যে ক্রসটি ছিল মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম লিথাল জিনের প্রভাব। নিচে ইঁদুরের ক্রসের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ অনুপাত নির্ণয় করা হলো:
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটে সেসব জিনকে লিথাল জিন বা মারন জিন বলে। এ জিনের প্রভাবে ৩:১ অনুপাতের পরিবর্তে ২:১ অনুপাত প্রকাশিত হয়। নিচে জিনাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো-
ধরা যাক,
ইঁদুরের গায়ের হলুদ বর্ণের লোমের জন্য দায়ী প্রকট জিন = Y
এবং মেটে বর্ণের লোমের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন= y.
মেন্ডেলের সূত্র অনুযায়ী বিশুদ্ধ বা হোমোজাইগাস হলুদ বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ হবে YY এবং বিশুদ্ধ মেটে বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ হবে yy. কিন্তু প্রকৃতিতে যেসব হলুদ বর্ণের ইঁদুর পাওয়া যায় তাদের কোনোটিই বিশুদ্ধ বা হোমোজাইগাস (YY) জিনাটাইপধারী নয়। কারণ, Y জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় লিথাল জিন হিসেবে কাজ করে ভ্রুণ অবস্থায় ইদুরের মৃত্যু ঘটায়। তাই প্রকৃতিতে যেসব হলুদ বর্ণের ইঁদুর পাওয়া যায় তারা সবাই হেটারোজাইগাস অর্থাৎ সংকর (Yy) প্রকৃতির।
উদ্দীপকের সাদা ও কালো দুইটি বিড়ালের মধ্যে ক্রস ঘটানো হলো। তাদের সৃষ্ট অপত্যদের বৈশিষ্ট্য অনুপাত হলো ১:১।
মনে করি, কালো বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী প্রকট জিন B এর সাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন b সেহুতু কালো প্রকট বৈশিষ্ট্য, যেহেতু কালো বিড়ালটির ক্ষেত্রে সাদা রঙ হওয়ায় এর জিনোটাইপ (bb) বিশুদ্ধ বা হোমোজাইগাস হবে। এখন এই দুই ধরনের গ্যামেটে ক্রস ঘটালে ৫০% কালো এবং ৫০% সাদা বাঁচার জন্ম হবে।
ব্যাখ্যা: এখানে সাদা ও কালো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ক্রস ঘটানোর কারণে উৎপন্ন সংকর কালো রং ও বিশুদ্ধ সাদা রংয়ের বিড়ালের মধ্যে ক্রসের ফলে এই ক্ষেত্রে ফিনোটাইপিক অনুপাত ২:২ বা ১:১ হয়েছে।
সুতরাং উক্ত প্রক্রিয়াটি Test cross কে নির্দেশ করে।