| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জমিদার নন্দলালের মৃত্যুর…’ ঢাকা কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জমিদার নন্দলালের মৃত্যুর পর তার একমাত্র উত্তরাধিকারী গোবিন্দলাল জমিদারি পায়। গোবিন্দলাল বয়সে তরুণ ও সরল প্রকৃতির। তার এ সুযোগ নিয়ে তার কাকা শিশির গোবিন্দলালের অমাত্যদের নিয়ে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণে’ পরিণত হয়। গোবিন্দলাল বিষয়টি বুঝতে পারে এবং তার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
‘সিরাজউদ্দৌলা' চার অঙ্কের নাটক।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজরা পালিয়ে যাওয়ায় উমিচাঁদ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছে।
১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন । ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলর ফকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যায় । তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
গোবিন্দলালের কাকা ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে আলীবর্দি খাঁ তার ছোটো মেয়ের ছেলে সিরাজকে খুব অল্প বয়সে বাংলার নবাব নিযুক্ত করলে, সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। ফলে সিরাজের প্রতি অগ্নিসম হিংসা হৃদয়ে লালন করা শুরু করেন। এই পরিণতিতে ঘসেটি বেগম সিরাজের ধ্বংস নিশ্চিত করার ষড়যন্ত্রে মিরজাফর ও রাজবল্লভকে যুক্ত করেন।
উদ্দীপকে জমিদার নন্দলালের মৃতুর পর তার একমাত্র উত্তরাধিকারী গোবিন্দলাল জমিদারি পায়। গোবিন্দলাল বয়সে তরুণ ও সরল প্রকৃতির। তার এ সুযোগ নিয়ে তার কাকা শিশির গোবিন্দলালের অমাত্যদের নিয়ে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণে' পরিণত হয়। যেটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের বড়ো খালা ঘসেটি বেগমের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ নবাব আলীবর্দী খাঁ যখন সিরাজউদ্দৌলাকে নবাব হিসেবে নিয়োগ দেন তখন তাঁর বড়ো মেয়ে ঘসেটি বেগমও এটি মেনে নিতে পারেননি বরং নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গোবিন্দলালের কাকার সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ
যৌক্তিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গোবিন্দলাল সফল হয় এবং সিদ্ধান্ত ও কর্মতৎপরতায় ভুল হওয়ায় সিরাজউদ্দৌলার পতন হয় বিধায় আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ ।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বেশ কিছু অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় । তিনি সহজেই তাঁর অমাত্যবর্গকে বিশ্বাস করেছিলেন। মিরজাফর ও তার দোসরদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আভাস পেলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেননি তিনি, উলটা মিরজাফরের উপরই পলাশির যুদ্ধের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন। ফলে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তাঁকে। মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা । উদ্দীপকের গোবিন্দলাল পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমিদারির দায়িত্ব পান। সে ছিল বয়সে নবীন এবং উদার প্রকৃতির মানুষ। তাই সুযোগে তার কাকা শিশির গোবিন্দলালকে ক্ষমতাচ্যুত করে জমিদারিত্ব নিজের দখলে নিতে চায়। আর তাই সে গোবিন্দলালের অমাত্যদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু গোবিন্দলাল বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দেন ।
উদ্দীপকের গোবিন্দলাল যথেষ্ট বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। তিনি বয়সে তরুণ এবং সরল প্রকৃতির মানুষ হলেও শাসক হিসেবে ছিলেন যথেষ্ট চৌকস এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী, যা আলোচ্য নাটকের সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। মূলত, নবাবের পরিণতির জন্য তাঁর অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি যদি মিরজাফর ও তার অনুগতদের উপর নির্ভর না করতেন তাহলে তাঁকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হতো না। তাই বলা যায়, সিরাজউদ্দৌলা এবং গোবিন্দলালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মতৎপরতা নাটক ও উদ্দীপকের শেষ পরিণতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।