| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব আব্দুল আজিজ…’ a – বারিমণ্ডল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব আব্দুল আজিজ ‘এশিয়া প্যাসিফিক স্কাউট’ সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এশিয়ার পূর্বে অবস্থিত একটি দেশে যান। সেখানে তিনি সেদেশের মহাসাগর পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানতে পারেন যে, তুলনামূলকভাবে এখানে মহীঢালের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া উক্ত মহাসাগরটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূভাগ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের তলদেশে মিশ্রিত অংশকে মহীঢাল বলা হয়।
ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নয়নে যেসব উপকরণ প্রয়োজনীয় তার প্রায় উপকরণই সমুদ্রের সমভূমিতে থাকায় তা ব্যবসায়ের উন্নতিতে সহায়ক।
সমুদ্রের গভীর সমভূমি অঞ্চলে নানা প্রকার জৈব ও অজৈব সম্পদ পাওয়া যায়। এতে সমুদ্রের এ অংশে অনেক নুড়ি পরিলক্ষিত হয়। আর এ নুড়িতে ম্যাংগানিজ, লোহা, সিসা, তামা, নিকেল, দস্তা, কোবাল্ট, মলিবডেনাম ইত্যাদি অতীব মূল্যবান ধাতু পাওয়া যায়। এছাড়া সমুদ্রের এ অংশে প্রচুর পরিমাণে মুক্তা, স্পঞ্জ, শামুক, ঝিনুক প্রভৃতি সংগৃহীত হয়।
জনাব আব্দুল আজিজের পর্যবেক্ষণকৃত প্রশান্ত মহাসাগরের মহীসোপানের সংখ্যা কম হওয়ায় উক্ত মহাসাগরের মহীঢালের সংখ্যা বেশি।
মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূভাগ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের তলদেশে মিশ্রিত অংশকে মহীঢাল বলা হয়।
মহীসোপান, কম হওয়ার কারণে জনাব আব্দুল আজিজের পর্যবেক্ষণকৃত প্রশান্ত মহাসাগরটির মহীঢাল বেশি ছিল। কারণ উক্ত মহাসাগরটির পানি সাগর গর্ভে নিমজ্জিত ভূমি হঠাৎ বেশি ঢালবিশিষ্ট হয়ে গভীরে নেমে যায়। তাছাড়া এর গভীরতা ১৮০ মিটার থেকে ৩,৬০০ মিটার পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়। আর এটির অধিক খাড়াভাবও তার নজরে আসে যা খুব প্রশস্ত নয়। অর্থাৎ এটি গড়ে ১৬ কিমি. হতে ৩২ কিমি. প্রশস্ত। এটির উপরিভাগও সমান নয়। এছাড়া, অসংখ্য অন্তঃসাগরীয় গিরিখাত অবস্থান করায় তা খুব বন্ধুর প্রকৃতির ছিল। আর এসবকিছুই মহীঢালের পূর্ব লক্ষণ। প্রশস্ত মহাসাগরের পূর্বতীর বরাবর উত্তর-দক্ষিণে ছিল রকি ও আন্দিজ পর্বতমালা যা মহাসাগরটির উপকূলকে করেছিল মহীসোপানবিহীন। ফলে এখানকার উপকূলে কোনো মহীসোপান গড়ে ওঠে নি। আর এজন্যই সেখানে মহীঢালের পরিমাণ বেশি ছিল।
জনাব আব্দুল আজিজের পর্যবেক্ষণকৃত প্রশান্ত মহাসাগর সেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রধান ভূমিকা পালন করে। এসব যোগাযোগের মাধ্যমের মধ্যে সমুদ্রপথ অন্যতম। যা সেদেশের ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।
F যেকোনো দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রসারতার অর্জনের ওপর। আর এ প্রসারতা অর্জনের নির্ভর করে সেদেশের উন্নত ও সূদুরপ্রসারী যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। যার দরুন দেশটি হয়ে উঠবে সমৃদ্ধশালী ও শিল্পনগরীর প্রাণকেন্দ্রবিন্দু। মহাসাগর হলো কোনো দেশের এমন এক মাধ্যম যার ওপর দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজে ও অনায়াসে যাতায়াত করা যায়।
উদ্দীপকের আব্দুল আজিজের পর্যবেক্ষণকৃত প্রশান্তি মহাসাগর সেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হয়। কারণ এ মহাসাগরের এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা সেদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম। অর্থাৎ এ মহাসাগরের মহীঢালের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক্। যা সেদেশের আদর্শ সামুদ্রিক বন্দর গড়ে উঠবে। যা সেদেশের ব্যবসায় বাণিজ্যে সমূহ সম্ভাবনাকে নিশ্চিত করে। এছাড়া মহীঢাল বেশি হওয়ার কারণে সেখানে মূল্যবান ম্যাঙ্গানিজ নডিউলস ও অন্যান্য ধাতু পাওয়া যায়। উক্ত মহাসাগরটি অনেকগুলো সাগর নিয়ে গঠিত। এতে সেদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এগুলো ছাড়াও সেদেশের অসংখ্য দ্বীপমালার উপকূলে ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলো গঠিত হওয়ায় সেদেশের ব্যবসায় পরিবেশ হয়েছে যথেষ্ট অনুকূল। আর এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে উক্ত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে বলে তা নিশ্চিত করা যায়।