| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব ‘চ’-এর দুই…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৫ – ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব ‘চ’-এর দুই ছেলের মধ্যে একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এ কারণে সে খুব অসন্তুষ্ট। সে মনে করে, এটি তার বা তার পূর্বপুরুষের পাপের ফসল। সে মনে করে, প্রতিবন্ধিতা একটি অভিশাপ। তার এরূপ মনোভাব বুঝতে পেরে এলাকার ইমাম সাহেব খুতবায় বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ বা পাপের ফসল নয়। বরং এটি ব্যক্তির জন্য আখিরাতের সম্মানিত হওয়ার কারণ। অপরদিকে, জনাব ‘ছ’ একজন ব্যবসায়ী। তিনি ওজনে কম দেন না এবং কর্মচারীদের বেতন যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে প্রদান করেন। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মাতৃভূমি তথা দেশের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসা, প্রীতি ও দরদকে দেশপ্রেম বলে।
হালাল উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা ইসলামি জীবনব্যবস্থার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর দুটি গুরুত্ব হলো-
হালাল উপার্জন ফরজ : আল্লাহ তায়ালা মানব সৃষ্টি করেছেন তাঁরই ইবাদত-বন্দেগির জন্য। ইবাদত করা যেমন ফরজ, তেমনি হালাল উপার্জন বা হালাল রুজি অন্বেষণ করাও ফরজ।
ইবাদত কবুলের শর্ত : ইবাদতসমূহ কবুল হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হলো হালাল রুজি, যার রুজি হালাল নয়, তার যাবতীয় ইবাদত- সালাত, সাওম, হজ, যাকাত কিছুই কবুল হবে না।
উদ্দীপকে জনাব 'ছ' তার কর্মকান্ডে হালাল উপার্জনের প্রতি লক্ষ্য রেখে চলেন।
জনাব 'ছ' একজন ব্যবসায়ী, তিনি ওজনে কম দেন না এবং কর্মচারীদের বেতন যথাসময়ে প্রদান করেন। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করেন না, তাই জনাব 'ছ'-কে একজন সৎ ব্যবসায়ী বলা যায়, আর সৎ উপায়ে ব্যবসায় উপার্জিত জীবিকা হালাল, তাই বলা যায়, জনাব 'ছ' হালাল উপার্জনের প্রতি লক্ষ্য রেখে চলেন।
হালাল উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা ইসলামি জীবনব্যবস্থায় খুবই গরুত্বপূর্ণ বিষয় মুসলিম হিসেবে হালাল উপার্জন আমাদের ইমানের দাবি। ইবাদত করা যেমন ফরয, তেমনি হালাল উপার্জন বা হালাল রুজি অন্বেষণ করাও ফরয, মহানবি (সা,) বলেন, “হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পরেও একটি ফরজ।” (বায়হাকি) ইবাদসমূহ কবুল হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হলো হালাল রুজি। যার রুজি হালাল নয়, তার যাবতীয় ইবাদত সালাত, সাওম, হজ, যাকাত কিছুই কবুল হবে না। কাজেই বোঝা যায়, ইমানের পরে হালাল রুজি উপার্জন করে হালাল অনুযায়ী জীবনযাপন করা ফরজ।
পরিশেষে বলা যায়, শ্রমের দ্বারা হালাল উপায়ে অর্জিত খাদ্যই সর্বোত্তম খাদ্য।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'চ'-এর ধারণাকে আমি সঠিক মনে করি না।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী ছড়িয়ে আছে। সৃষ্টির সেরা মানব শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও ইন্দ্রিয় প্রতিবন্ধী হয়ে আমাদের সমাজে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে। নানারকম অপমানমূলক শব্দ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় (যেমন- হাবাগোবা, পাগল, কানা, অন্ধ, লুলা, লেংড়া)। ইসলাম এ ধরনের কাজকে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করেছে।
প্রতিবন্ধী শব্দটি নিয়েও প্রচলিত রয়েছে অনেক রকমের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা, আমাদের দেশে শিশুর প্রতিবন্ধীত্বের জন্য মা-বাবার পূর্ব পাপ অভিশাপ, অন্যায় অপরাধের শাস্তি ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি প্রতিবন্ধিতা কোনো ছোঁয়াচে রোগও নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী শিশু এবং ওই শিশুর পরিবারকে সমাজে অনেক অপবাদ ও অবজ্ঞা সহ্য করতে হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদেরকে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। তাই প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। উদ্দীপকে জনাব। 'চ'-তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে তার পূর্বপুরুষের পাপের ফসল মনে করেন। তিনি মনে করেন, প্রতিবন্ধিতা একটি অভিশাপ তার এরূপ মনোভাব সঠিক নয়। উপরিউক্ত আলোচনায় তার এরূপ দৃষ্টিভঙ্গির অযৌক্তিকতা ফুটে উঠেছে। তাই 'চ'-এর ধারণাকে আমি সঠিক মনে করি না।