| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব “ক’ একজন…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

জনাব “ক’ একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। অবহেলিত কৃষকদের উন্নতির জন্য তিনি ‘কৃষি ঋণ আইন’ ও ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ প্রণয়ন করেন। শিক্ষা বিস্তারেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ধর্মহীনতা নয়, বরং সকল ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাস সংরক্ষণ করাকে বোঝায়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতা হলো রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। কেউ যাতে অন্যের ধর্ম পালনে বাধা দিতে না পারে এবং সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করতে পারে, সেজন্য ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'ক'-এর সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন মেধাবী, ব্যক্তিত্ববান ও কৃষকদরদি নেতা। তিনি কৃষকদের জমিদার ও মহাজনদের শোষণ থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন এবং শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়। উদ্দীপকের জনাব 'ক' একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে কৃষকদের উন্নতির জন্য 'কৃষি ঋণ আইন' ও 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' প্রণয়ন করেন। একইভাবে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৩৭ সালে প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করেন এবং কৃষকদের ঋণমুক্ত করতে ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর মতো তিনিও শিক্ষা বিস্তারে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকও পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতেন। সুতরাং, কার্যাবলি ও আদর্শের দিক থেকে জনাব 'ক' এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক অভিন্ন।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা তথা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন মেধাবী, ব্যক্তিত্ববান, বাস্তব দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতীয়তাবাদী নেতা। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত। জাতির সর্বাঙ্গীন উন্নতি ও অগ্রগতির মূলে যে আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজন ফজলুল হক তা যথাযথভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিদ্যানুরাগী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একজন বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক। তিনি ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় শিক্ষা সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এ সম্মেলনে তিনি আধুনিক ও পাশ্চাত্য ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। ১৯১২ সালে তিনি কলকাতায় মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠন করেন। গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য তিনি যথাসাধ্য অর্থ সাহায্য করতেন।
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা দপ্তরের কার্যাবলি নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করেন। ১৯২৪ সালে অবিভক্ত বাংলার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি 'মুসলিম এডুকেশন ফান্ড' এবং কলকাতায় 'ইসলামিয়া কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন'ও ফজলুল হক কর্তৃক গঠিত হয়। কলকাতায় 'লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ', ১৯৪০ সালে বরিশালের চাখারে 'ফজলুল হক কলেজ', ঢাকায় 'ইডেন মহিলা কলেজ' ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ফজলুল হক হল' প্রভৃতিও তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
পরিশেষে বলা যায়, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখেন।