| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব মাহিন ‘ক’…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব মাহিন ‘ক’ রাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পদে নিয়োগ লাভ করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। তিনি দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন এবং যে কোনো বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত পেশ করতে পারেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
সুদীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচলিত আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি কে প্রথা বলে।
পৌরনীতিতে সাম্যের অর্থ হচ্ছে সুযোগ- সুবিধাবিদ সমতা। জাতি- ধর্ম - বর্ণ, স্ত্রী - পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাকে সাম্য বলে। অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্য অর্থ ১. বিশেষ সুযোগ -সুবিধার অনুপস্থিতি, ২. যথার্থ ও যথেষ্ট সুযোগ - সুবিধার সৃষ্টি এবং বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও দ্রব্যের সমভাবে বন্টন। সুতরাং সাম্য বলতে আমরা এমন একটি পরিবেশকে বুঝি যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য সমান অনুকূল সুযোগ- সুবিধা পায়।
উদ্দীপকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
স্বাধীনতা ভোগের বিভিন্ন ক্ষেত্র ভেদে কয়েকটি শ্রেণীকরণ করা হয়। তার মধ্যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অন্যতম। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির নিজস্ব কাজ করার স্বাধীনতাকে বোঝায়। এটির রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা বলবৎকৃত এবং ব্যক্তির জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় অধিকারগুলো উপভোগ করা স্বীকৃতি। যেমন - ব্যক্তির চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ইত্যাদি।
উদ্দীপকে জনাব মাহিনের জীবন ধারণের ও কর্মের স্বাধীনতা হলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। আবার সমাজ মানুষ নিজের ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য যে স্বাধীনতা ভোগ করে তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে যেমন - শিক্ষার স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, পরিবার গঠনে স্বাধীনতা, ইত্যাদি। জনাব মাহিনের চলাফেরা স্বাধীনতাটির প্রতিফলন। আবার, জনগণের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানোর জন্য যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ লাভ হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। জনাব মাহিনের যোগ্যতাবলে নিয়োগ লাভ ও নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ- সুবিধা ভোগ, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সম্পর্কিত করেছে। সর্বোপরি, জনাব মাহিনের যেকোনো বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত পেশ করা হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ।
অতএব বলা যায় যে, উদ্দীপকে ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় তথা স্বাধীনতার সাথে আইনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিয়ে পরস্পর বিরোধী দুটি মতামত রয়েছে। আইন ও স্বাধীনতার গভীর সম্পর্কের বিষয়ে মতামত ব্যাক্ত করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এরিস্টটল, জন লক, জ্যাঁ জ্যাঁক রুশো প্রমুখ। তাদের মতে, আইন সামাজিক কল্যাণ সাধন করে, ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ সুগম করে ও স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রসারিত করে। ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ সুগম করেও স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রসারিত করে। অপরদিকে, জন স্টুয়ার্ট মিল, ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী। কেননা, আইন স্বাধীনতা কে সংকোচিত করে। এতদ্বসও্বে ও আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক বেশ গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আইন ও স্বাধীনতা পরস্পরের পরিপূরক। আদর্শবাদী দার্শনিকগণ আইনকে স্বাধীনতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা, সামাজিক অন্যায়-অবিচার বেড়ে যেত। আইন স্বাধীনতাকে যথাযথভাবে উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করে। এজন্যই জন লক বলেছেন - যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার, স্বাধীনতাকে যদি ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক বলা হয় তাহলে আইন হলো তার নিশ্চায়ক। আইনের মাধ্যমেই সমাজের শান্তি - শৃংখলার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। তাই আইন হলো স্বাধীনতার অভিভাবক ও পরিচালক। স্বাধীনতা যখন অন্যের ক্ষতি না করে নিজের অধিকার ভোগকে নির্দেশ করে, সেখানে আইন সেই অধিকার এর সীমা নির্ধারণ করে। যদিও কিছু আইন স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। তথাপি আইন ছাড়া স্বাধীনতা অসম্ভব ও অবাস্তব। সুতরাং বলা যায়, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত।