| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব মুনাফ ও…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

জনাব মুনাফ ও ইকরাম দু’জন একই গ্রামের বাসিন্দা । দু’জনই কৃষিকাজ করেন। ইকরাম নিজের জমি চাষ করার সময় অন্যের জমির সীমানা ঠিক রাখেন না। অপরদিকে মুনাফ জীবনের সবক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহের অনুশাসন মেনে চলেন। তিনি নিজের জমি চাষ করেন। বর্তমানে জমি লিজ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ পদ্ধতি বৈধ কি-না তা জানার জন্য একজন বিজ্ঞ আলেমের কাছে গেলে, তিনি আল- কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন— ‘হে বিচক্ষণ জ্ঞানীগণ! তোমরা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন করো।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
কিয়াসের রুকন ৪টি।
উল্লিখিত হাদিসটিতে হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসটির অর্থ— হালাল উপার্জন অন্বেষণ করা ফরজের পরে একটি ফরজ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আল-কুরআনের আয়াতটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করে।
যে যুক্তি বা ভিত্তির ওপর মূল আইন প্রতিষ্ঠিত সে যুক্তির আলোকে জীবন ও সমাজে উদ্ভূত নতুন নতুন সমস্যা সমাধানে আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিই কিয়াস। কুরআন মাজিদে কিয়াসের স্বীকৃতি রয়েছে। ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে কিয়াস নতুন কিছু নয়। রাসুল (স)-এর যুগেই কিয়াসের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। তিনি নিজে কিয়াস করার জন্য সাহাবিদের বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবিরা কিয়াসের স্বাধীন প্রয়োগের মাধ্যমে একে ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন হে চক্ষুষ্মানগণ, তোমরা শিক্ষাগ্রহণ কর (সুরা আল-হাশর: ২)। উদ্দীপকের আলেমের তিলাওয়াতকৃত আয়াতটিতেও এ কথাই বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের উল্লেখিত বিজ্ঞ আলেমের কাছে মুনাফ নামের ব্যক্তি জমি লিজ সংক্রান্ত বিধানের ব্যাপারে জানতে গেলে তিনি উল্লিখিত আয়াতটি তিলাওয়াত করে শোনান। নতুন কোনো সমস্যা সমাধানের বিধান বৈধ নাকি অবৈধ তা নির্ধারণ করা হয় কিয়াসের মাধ্যমে। উদ্ভূত সমস্যাকে ‘আছল' এর সাথে তুলনা করে উপযুক্ত ইল্লতের মাধ্যমে সেই নতুন বিষয়ে হুকুম দেওয়া হয়। এভাবে কিয়াসের মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন নতুন সমস্যার বৈধতা সম্পর্কে জানা যায়।
ইকরামের উপার্জন ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, সমাজজীবনে এর বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষণীয়।
প্রতারণার মাধ্যমে বা কাউকে ঠকিয়ে উপার্জন করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চুরি, লুণ্ঠন, জোর-জবরদস্তি কিংবা অন্যের হক নষ্ট করে সম্পদ উপার্জন হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে অনুমতি ব্যতীত কারও জমির সীমানায় চাষ করে অর্থোপার্জন করলে সেটিও হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে। ইকরামের উপার্জনে এমনটাই লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের ইকরাম জমি চাষ করে উপার্জন করেন। কিন্তু চাষের সময় অন্যের জমির সীমানা ঠিক রাখেননা। অন্যের জমিতে চাষ করে উপার্জন করায় তার এ উপার্জন অবৈধ। কারণ এতে জমির মালিকের হক নষ্ট হয়। ইকরামের এরূপ কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজজীবনে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে অনুমতি ব্যতীত কারও জমিতে অন্যায়ভাবে চাষ করার ফলে একে অপরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সুদৃঢ় বন্ধনে ভাঙন ধরে। ঝগড়া-বিবাদের ফলে সমাজে মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। আবার সমাজে এমন কিছু লোক থাকে, যারা এরূপ দ্বন্দ্বে ইন্ধন যোগানোর কাজে লিপ্ত থাকে। তারা একজনের কথা অপরজনকে বলে সমাজে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফলে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে এবং কল্যাণময় ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বিঘ্নিত হয়।
সর্বোপরি হারাম উপার্জন ইবাদতকে নষ্ট করে। তাই আমাদের উচিত উপার্জনের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা।