| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব ‘P’ একটি…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৫ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব ‘P’ একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা। তিনি জনগণকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারেন। তার ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্য জনগণকে উজ্জীবিত। করে। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তার প্রতি মুগ্ধ এবং তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাসও করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
স্বাধীনতা হচ্ছে নিজের কাজ নিজের মতো করে করা, যেখানে কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা শব্দটি একটু অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয়। পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা বলতে অপরের কাজে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না
করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন এক পরিবেশ যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব 'P' এর মাধ্যমে সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। সম্মোহনী নেতৃত্বের ভূমিকা জনগণকে মুগ্ধ করে, আবেগাপ্লুত করে এবং অন্ধ অনুকরণে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী প্রমুখের নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব 'P' একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা। তিনি জনগণকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারেন। তার ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্য জনগণকে উজ্জীবিত করে। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তার প্রতি মুগ্ধ এবং তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাসও করে। জনাব 'P'-এর এরূপ গুণাবলি স্পষ্টভাবে সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে। কেননা, কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তখন সেই নেতৃত্বকে 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' বা 'জাদুকরী নেতৃত্ব' বলা হয়। এ ধরনের নেতৃবৃন্দ তীব্র আকর্ষণ শক্তির অধিকারী এবং জনগণ তাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করে। সম্মোহন বলতে কোনো ব্যক্তির বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলিকে বোঝানো হয়। এ বিশেষ গুণাবলিই সম্মোহনী শক্তিসম্পন্ন নেতাকে সাধারণ জনগণের থেকে পৃথক করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতৃত্ব তথা সম্মোহনী নেতৃত্ব জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
যেকোনো সমাজব্যবস্থায় বা রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ ধরনের নেতৃত্বে জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ। তিনি তার সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণেই বাঙালি জাতিকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। নেতৃত্ব এমন একটি গুণ, যা অন্যকে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করে। একজন নেতাই পারেন সাধারণ জনগণকে অভীষ্ট 'লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে। নেতৃত্বের গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিই হলেন জনগণের অভিভাবক, পরিচালক, উৎসাহ প্রদানকারী এবং পথপ্রদর্শক। নেতৃত্বের অনুপ্রেরণায় জনগণ উদ্বুদ্ধ হয়। এক আদর্শ ও ভাবনায় অনুপ্রাণিত' হয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে তৎপর হয়। তার বিশিষ্ট গুণই তাকে জনগণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। ফলে তিনি সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করে জাতি গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সুতরাং বলা যায়, জাতি গঠনে সম্মোহনী নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।