| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব শামীম একজন…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব শামীম একজন ব্যবসায়ী। তিনি সীমিত মুনাফা করেন। নিয়মিত কর প্রদান করেন এবং নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
মূল্যবোধ হলো এমন একটি মানদণ্ড যা ভালো-মন্দ নির্ধারণের মাধ্যমে মানুষের আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
সামাজিক অধিকার বলতে সেসব অধিকারকে বোঝায়, যা সামাজিক জীবনযাপন এবং জীবন সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।
সামাজিক অধিকার উপভোগের মাধ্যমে ব্যক্তি তার বাহ্যিক উন্নতি সাধন ছাড়াও ব্যক্তিত্ব বিকাশ সাধন করতে সমর্থ হয়। জীবন রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, চলাফেরা করার অধিকার, বিনা বিচারে আটক না থাকার অধিকার, সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, চুক্তি করার অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার, খ্যাতি লাভের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব শামীম নাগরিকের আইনগত কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তব্য পালন করেছেন।
নাগরিকের যেসব কর্তব্য রাষ্ট্রের আইনের দ্বারা আরোপ ও কার্যকর করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন অধিকার ভোগ করতে হলে নাগরিকের জন্য এ সকল কর্তব্য পালন করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তব্য হলো নাগরিকের জন্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ দুটি কর্তব্য। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মেনে চলা, সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে উৎপাদন, বণ্টন ও বিনিয়োগে অংশগ্রহণ, নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, জনাব শামীম নির্বাচনে ভোটদান করেন। অর্থাৎ তিনি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। আবার, ভোটদানের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন, যা নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্তব্য পালনের বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, জনাব শামীমের কর্মকাণ্ডে নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তব্য পালনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
নির্বাচনে ভোট প্রদান অধিকার বিষয়টি তথা কর্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একে অপরের পরিপূরক"-উক্তিটি যথার্থ।
রাষ্ট্রের নিকট নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, অনুরূপ রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে। কর্তব্য পালন ব্যতীত শুধু অধিকার ভোগ করা প্রত্যাশিত নয়। একমাত্র কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই নাগরিক অধিকার উপভোগ করা যায়। আর রাষ্ট্রের অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন বিকশিত হয়। তাই বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। অধিকার ভোগ করলে কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- ভোটদান নাগরিকের অধিকার, আর ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিকের কর্তব্য। একটি ভোগ করলে অন্যটি পালন করতে হয়। একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্য নির্দেশ করে।
আমরা রাষ্ট্র প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করি। তার বিনিময়ে আমাদের কিছু কর্তব্যও পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা ইত্যাদি। এসব কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই আমরা রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করি। এছাড়া সমাজের সদস্য হিসেবে আমরা শিক্ষা লাভের অধিকার ভোগ করি এবং সমাজের কল্যাণে আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করে সমাজের উন্নয়ন করি। শিক্ষা লাভ আমাদের অধিকার, অর্জিত শিক্ষা প্রয়োগ করা কর্তব্য।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি ভোগ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।