| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব শীতল সম্প্রতি…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব শীতল সম্প্রতি একটি রাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি লক্ষ করেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো কাগজপত্র নির্ভর; অনলাইনভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার কোনো ব্যবহার নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ, জনগণের তথ্য জানার অধিকার উপেক্ষিত, ফলে নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও দুর্বল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
ই-গভর্নেন্স বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে অতি সহজে ও দ্রুত সরকারের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য সরবরাহ করা যায়।
প্রশাসনে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রধান প্রয়োজনীয়তা হলো প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কমে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়, যা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। দেশের নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের হাতে অধিক কর্তৃত্ব ন্যস্ত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির শাসনব্যবস্থায় ই-গভর্নেন্স ও সুশাসনের অভাবজনিত ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
ই-গভর্নেন্স হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা যেখানে ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান করা হয়। এটি প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনে, দুর্নীতি হ্রাস করে এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে নাগরিক অধিকার রক্ষা করে। বর্তমানে উন্নত রাষ্ট্রগুলো ই-গভর্নেন্সের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শাসনব্যবস্থার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করে।
উদ্দীপকের রাষ্ট্রটিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো এনালগ বা কাগজপত্র নির্ভর এবং সেখানে অনলাইন সেবার কোনো অস্তিত্ব নেই। এর ফলে কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ হয়ে পড়েছেন এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ই-গভর্নেন্সের অনুপস্থিতির কারণেই মূলত সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিয়েছে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার প্রধান ত্রুটি।
রাষ্ট্রটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমার প্রধান সুপারিশ হলো ই-গভর্নেন্সের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন অপরিহার্য। ই-গভর্নেন্স এই প্রক্রিয়াগুলোকে সহজতর করে এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে গতিশীলতা আনয়ন করে। যখন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে, তখন দুর্নীতির সুযোগ কমে যায় এবং জনগণের সাথে সরকারের দূরত্ব হ্রাস পায়। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হলে নাগরিকগণ সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
উদ্দীপকের রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে, ডিজিটাল সেবা বা ই-প্রশাসন চালু করলে কর্মকর্তাদের অলসতা ও দুর্নীতি দূর হবে। তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করলে নাগরিকরা সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারবে, যা প্রশাসনের -অদক্ষতা দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সিটিজেন চার্টার (Citizen's Charter) প্রবর্তন করলে সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে এবং নাগরিকগণ নির্দিষ্ট সময়ে সেবা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে ই-গভর্নেন্সের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের রাষ্ট্রটিতে যদি অনলাইন সেবা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই সেখানে একটি জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করবে।