| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব সুমন সম্প্রতি…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব সুমন সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে একটি উপজেলার কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি তার অফিসে সিটিজেন চার্টার টানিয়েছেন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করেছেন। তিনি নিজে কোনো ফাইল আটকে রাখেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
আমলাতন্ত্রের জনক হলেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)।
স্থানীয় সরকার হচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থা।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চালুর ফলে ক্ষমতার বিভাজন ঘটে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সহজ হয় এবং দুর্নীতির মাত্রা কমে যায়। যার ফলে সর্বাধিক জনকল্যাণ ও সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছানো যায়। জনগণ অতি সহজেই উন্নত সেবা পেয়ে থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। যথা— ইউনিয়ন, থানা/উপজেলা ও জেলা পরিষদ।
জনাব সুমনের কার্যক্রমে জনসেবায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকার দিকটি ফুটে উঠেছে ।
প্রত্যেক রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ই সরকারের স্থায়ী, বেতনভুক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের দ্বারা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। যারা আমলা নামে পরিচিত। আমলাগণ একদিকে যেমন সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন; অন্যদিকে আইন প্রণয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য- উপাত্ত সরবরাহ করে সরকারকে সহায়তা করেন। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সরকারের বিপুল পরিমাণ জনকল্যাণকর কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব আমলাদের ওপর ন্যস্ত। অর্থাৎ আমলারাই সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদান করে জনসেবায় নিয়োজিত থাকে ।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জনাব সুমন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অফিসে সিটিজেন চার্টার টানিয়েছেন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করেছেন । তিনি তার অফিসে কোনো ফাইল আটকে রাখেন না। এ ঘটনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই আমলাদের সাথে জনগণের সেতুবন্ধনের প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা, বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে ‘সব সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।' এ থেকেই বোঝা যায়, আমলাতন্ত্র জনগণের প্রভু নয় বরং জনসেবক। উল্লিখিত ঘটনায় জনাব সুমনও একই ধরনের কাজ করেছেন।
সুমনের আচরণ বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। অন্যান্য রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রশাসনিক অংশ হলো আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে কাজ হয়ে থাকে। উদ্দীপকে জনাব সুমন একজন সরকারি আমলা হয়ে তিনি জনকল্যাণ সাধনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এতে তার কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক।
বাংলাদেশের আমলাশ্রেণি যদি সুমনের মতো জনকল্যাণ ও সেবার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে তা হলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত হবে। ফলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে যা রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথ সুগম করবে। মূলত সুশাসনের উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং সরকারের নীতি ও উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। উদ্দীপকের জনাব সুমনের কার্যক্রমের ন্যায় বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় বর্তমানে সিটিজেন চার্টার ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে । এতে জনগণের সরকারি তথ্য ও সেবা পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে । কাজেই এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আমলা শ্রেণিকে তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে ।
পরিশেষে বলা যায়, সুমনের কার্যক্রম বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে গ্রহণ করা হলে সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে।