| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনাব ‘Y’ একজন…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনাব ‘Y’ একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি সহজেই তার প্রজ্ঞা, কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
আইনসভা দুই ধরনের হতে পারে। যথা- এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রদত্ত 'সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য অধিকার ভোগই ব্যক্তির অধিকার। যেমন- শিক্ষার অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'Y'-এর নেতৃত্বের গুণ ছাড়াও নেতৃত্বের আরও কিছু গুণাবলি রয়েছে। নিচে সেগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
ব্যক্তিত্ব: নেতাকে ব্যক্তিত্বের গুণে একক ও অনন্য ভাবমূর্তির অধিকারী হতে হয়। তাকে হতে হয় গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ব্যক্তিত্বের কারণে অনুসারীরা আনন্দচিত্তে নেতার আদেশ-নির্দেশ মেনে চলে।
বুদ্ধিমত্তা: যোগ্য নেতৃত্বের আবশ্যকীয় একটি গুণ হলো বুদ্ধিমত্তা। যোগ্য নেতাকে অবশ্যই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হতে হবে।
সাহসিকতা: নেতাকে সাহসী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হবে। নেতা সাহসী, আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী না হলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হয় না।
দায়িত্ববোধ: যোগ্য নেতাকে অবশ্যই দায়িত্ববোধসম্পন্ন হতে হবে। কেননা দায়িত্ববোধ না থাকলে নেতার পক্ষে সূক্ষ্ম ও সঠিক নেতৃত্বদান সম্ভব হয় না।
ন্যায়পরায়ণতা: ন্যায়পরায়ণতা নেতৃত্বের একটি বিশেষ গুণ। নেতাকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। নেতা সবাইকে একই দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সবার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করবেন।
উদারতা : নেতার অন্তর হবে উদার। নেতাকে অবশ্যই ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে সার্বিক জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। এছাড়া একজন নেতাকে সৎ, বিশ্বস্ত ও কাজের প্রতি আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি তাকে ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হবে।
আত্মসংযম: নেতৃত্বের অন্যতম গুণ হলো আত্মসংযম। নেতাকে অপরের মতামত সহ্য করার মতো ধৈর্যের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। সকল প্রকার লোভ ও লালসার ঊর্ধ্বে থেকে নেতা সকলের মন জয় করতে সক্ষম হন।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'Y'-এর গুণাবলি ছাড়াও নেতৃত্বের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি রয়েছে যা একজন যোগ্য নেতার জন্য আবশ্যকীয়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনাব 'Y' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি।
নেতৃত্ব হলো সুশাসনের বাহন। নেতৃত্ব হলো এমন গুণাবলি, যা অন্যকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে মহান নেতার আবির্ভাব ঘটেছে এবং তাদের নেতৃত্ব দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সঠিক নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন নেতা ক্ষমতায় বসে প্রথমেই যেসব কারণ সুশাসনের অন্তরায় সেগুলো চিহ্নিত করেন এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার সাথে অন্তরায়গুলো দূরীভূত করেন। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় সুশাসনের আদর্শ, ব্যক্তি ও কাঠামো গড়ে তুলে নেতৃত্ব সামনের দিকে অগ্রসর হয়। উদ্দীপকের জনাব 'Y'-এর নেতৃত্বগুণে দলের নেতা কর্মীরা যথেষ্ট প্রভাবিত। তার এ ধরনের গুণাবলি সুন্দর সমাজ ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করবে। কেননা, সুশাসন ও নেতৃত্ব পরস্পর সম্পূরকও। সুশাসন নেতৃত্বকে কাজ করার পরিবেশ দান করে। অপরপক্ষে, নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সুশাসন উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব 'Y'-এর কার্যাবলি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।