| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জন্মের পর বিভিন্ন…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জন্মের পর বিভিন্ন রোগের টিকার জন্য যেমন আমাদের দেহে এক ধরনের অনাক্রম্যতার সৃষ্টি হয়; তেমনি জন্মের সময়ও আমাদের দেখে প্রাকৃতিকভাবে এক ধরনের অনাক্রম্যতা সৃষ্টি হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
একাধিক জিন দ্বারা একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বংশগতিক উত্তরাধিকার ধারাই হলো পলিজেনিক ইনহ্যারিটেন্স।
মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল হলো ১১-১৪। এই সময়ে তারা প্রজননক্ষম। হয়ে ওঠে, রজঃচক্র আরম্ভ হয়, জনন অঙ্গের বিকাশ ঘটে এবং স্ত্রী গ্যামিট তৈরি হয়। এই সময়ে বিভিন্ন সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। এই যে পরিবর্তন হয়, তার সাথে শারীরিক ও মানসিকভাবে খাপ খাওয়াতে কিছু সময় লাগে। তাই মেয়েদের বিয়ের সময় ১৮-২০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি অর্থাৎ টিকা দানের মাধ্যমে আমাদের দেহে অনাক্রম্যতার সৃষ্টিকারী পদার্থটি হলো অ্যান্টিবডি। নিচে অ্যান্টিবডির গঠন বর্ণনা করা হলো:
সকল ধরনের অ্যান্টিবডির একটি সাধারণ গঠন থাকে। এটি চারটি পলিপেপটাইড শিকল নিয়ে গঠিত। এদের দুটি শিকল দৈর্ঘ্যে ছোট এবং দুটি বড়। ছোট ও বড় আকৃতির শিকলদের যথাক্রমে হালকা ও ভারী শিকল বলা হয়। প্রতিটি শিকলের দুটি নির্দিষ্ট অংশ আছে। একটি অংশ স্থায়ী ও অপরিবর্তনশীল, এদের CL ও CH হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর অংশটি অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল, এদের VL ও VH হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ছোট ও হালকা পলিপেপটাইড প্রায় 220টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে বড় ও ভারীগুলোতে থাকে 440টি। চারটি পলিপেপটাইড শিকল পরস্পর ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা পাশাপাশি যুক্ত হয়ে Y আকৃতির অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিন সৃষ্টি করে। Y আকৃতির অ্যান্টিবডি অণুর দীর্ঘ দণ্ডাকৃতির অংশটি কেবল ভারী পলিপেপটাইড শিকলের স্থায়ী অংশ দ্বারা গঠিত, যাকে FC অঞ্চল বলে। অপরদিকে Y এর প্রসারিত দুই বাহু উভয় ধরনের পলিপেপটাইড শিকল দ্বারা গঠিত হয় যাকে Fab অঞ্চল বলে। অ্যান্টিবডির Y যে অংশ দ্বারা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয় তাকে প্যারাটোপ বলে।
উদ্দীপকে দুটি অনাক্রম্যতাকে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মের সময় মানুষের দেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলে। অপরদিকে টিকার মাধ্যমে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয় তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা বলে। এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেয়া হলো- সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বংশগতির সাথে সম্পর্কযুক্ত ও প্রজাতি নির্দিষ্ট। অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা নিয়ে এটি গঠিত। সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোষ নিয়ন্ত্রিত হলেও অর্জিত প্রতিরক্ষা কোষ, কোষরস ও ইন্টারফেরন নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জিনগত স্বরূপ এর উপর সৃষ্ট। কিন্তু অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্বস্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্ট। এভাবে সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আলাদা করা যায়। দুই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে গঠনগত এবং উপাদানগত পার্থক্য থাকলেও এদের কাজ একই আর তা হলো দেহের রোগ-প্রতিরোধ করা। সহজাত প্রতিরক্ষার পাশাপাশি অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি কাজ করে তবে অনেক ধরনের রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।