| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জগতের কেউ-ই আপনার…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

জগতের কেউ-ই আপনার একার শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। নিত্যদিনের চাহিদা পূরণ করে কোনো একক ব্যক্তি যদি সুখী হতে চান, তবে অনেকের কাছেই হাত পাততে হবে, অনেক সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে। যাদের সহযোগিতা গ্রহণ করবেন তারা ওই ব্যক্তির চেয়ে বেশি বা কম শক্তিশালী হয়ে থাকেন। অর্থাৎ শক্তি নয়, প্রয়োজন পূরণ করাই মুখ্য বিষয়। এক্ষেত্রে কোনো পুরুষ যদি আপনার শক্তির বিচারে নারীকে খাটো করে দেখেন, তবে তা হাস্যকর হবে। কারণ-প্রয়োজনের বিচারে নারী-পুরুষ উভয়ে পরস্পরের মুখাপেক্ষী এবং এ প্রয়োজনীয়তা চিরন্তন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
ঈশ্বর মাতা অপেক্ষা অধিক করুণাময়।
"আবশ্যক হইলে কোন্দলও চলে"- উক্তিটি বেগম রোকেয়া।। নারীদের আরামপ্রিয়তা ও অলসতা প্রসঙ্গে বলেছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া দেখিয়েছেন, নারীরা শিক্ষা ও কর্মের অভাবে গৃহকোণে আবদ্ধ থেকে অলস সময় কাটায়। এই নিষ্ক্রিয়তার ফলে পরস্পরের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা ও কোন্দল চলে। মূলত শিক্ষার অভাবে নারীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পথ রুদ্ধ থাকায় তারা এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় কাজে লিপ্ত হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও পারস্পরিক নির্ভরতার বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া বলেছেন, সমাজজীবন দুই চাকার শিকটের মতো, যার এক চাকা স্বামী ও এক চাকা স্ত্রী। তিনি বলেছেন, প্রকৃতির নিয়মে প্রত্যেকেই অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তাঁর মতে, 'নারী-পুরুষের সম্পর্ক স্বামী-দাসীর নয়, বরং সহযাত্রী ও সমভাগিনীর।
উদ্দীপকের বক্তব্য হলো, প্রয়োজনের বিচারে নারী-পুরুষ উভয়ে পরস্পরের মুখাপেক্ষী এবং এটি চিরন্তন সত্য। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও রোকেয়া বলেছেন, তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্যপ্রার্থী, মেঘও তরুলতার সাহায্য চায়। উদ্দীপকের বক্তব্য রোকেয়ার পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি না করার আহ্বানের সঙ্গে মিলে যায়। উদ্দীপকের নারীকে খাটো করে দেখার যুক্তি রোকেয়ার পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের দাবির প্রতি তীব্র সমালোচনার প্রতিধ্বনি। তাই আমার মতামত হলো, উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ই নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও পারস্পরিক নির্ভরতার সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রাবন্ধিক বেগম রোকেয়ার প্রস্তাবিত 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি ব্যবহারের শতভাগ যৌক্তিকতা রয়েছে, কারণ নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক এবং উভয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সমাজ পূর্ণতা লাভ করে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সমাজকে একটি গাড়ির সাথে তুলনা করে নারী ও পুরুষকে তার দুটি চাকা বলেছেন। একটি চাকা দুর্বল বা ছোট হলে গাড়ি যেমন ঠিকমতো চলে না, তেমনি নারীকে পিছিয়ে রেখে সমাজ এগোতে পারে না। পুরুষের হয়তো দৈহিক শক্তির অহংকার থাকতে পারে, কিন্তু জীবনের সার্বিক পূর্ণতার জন্য তাকে সর্বদাই নারীর ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই নারী হলো পুরুষের 'অর্ধাঙ্গ'।
উদ্দীপকেও নারী-পুরুষের এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার দিকটি ফুটে উঠেছে। বলা হয়েছে, জগতে কোনো ব্যক্তিই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে মানুষকে একে অপরের সহযোগিতা নিতেই হয়। এখানে কে শক্তিশালী তা বিবেচ্য নয়, বরং প্রয়োজন মেটানোটাই আসল। তাই শুধুমাত্র শারীরিক শক্তির বিচারে পুরুষ যদি নারীকে খাটো করে দেখে, তবে তা অত্যন্ত হাস্যকর। কারণ নারী ও পুরুষ উভয়েই পরস্পরের মুখাপেক্ষী।
উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের চেতনা মূলত এক ও অভিন্ন। প্রাবন্ধিক বেগম রোকেয়া যেমন নারী ও পুরুষকে এক দেহের দুই অংশ হিসেবে দেখেছেন, উদ্দীপকেও ঠিক সেভাবেই একে অপরের পরিপূরক সত্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একা পুরুষের পক্ষে মানবজীবনের সম্পূর্ণতা অর্জন করা অসম্ভব। তাই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পুরুষের পরিপূরক হিসেবে নারীকে বোঝাতে প্রাবন্ধিকের 'অর্ধাঙ্গ' শব্দের ব্যবহার সর্বাংশে সার্থক ও যৌক্তিক।