| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জনগণ এখন খুব…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

জনগণ এখন খুব সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি তথ্য ও সেবা পাচ্ছে। মানুষ ঘরে বসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল প্রদান করতে পারছে। তবে একথাও সত্য যে, ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনও এ সেবার সুফলভোগী নয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
SMS-এর পূর্ণরূপ হলো- Short Message Service.
ই-গভর্ন্যান্স হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা। নিচে এর দুটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো- (১) ই-গভর্ন্যান্স সরকারি তথ্য ও নীতিকে জনগণের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়। এর ফলে সরকারি কার্যক্রমে গোপনীয়তা কমে আসে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। (২) ডিজিটাল রেকর্ড এবং অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের দায়বদ্ধতা - নিশ্চিত করা যায়। প্রতিটি পদক্ষেপের ডিজিটাল প্রমাণ থাকায় সহজেই কাজের স্বচ্ছতা যাচাই করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসনব্যবস্থাটি হলো ই-গভর্ন্যান্স। এর মাধ্যমে নাগরিকরা বহুমুখী সুবিধা ভোগ করতে পারে।
ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক পরিষেবা পরিচালনা করার একটি পদ্ধতি। এর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও গতিশীল করে তোলা।
ই-গভর্ন্যান্সের ফলে জনগণের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। নাগরিকরা এখন ঘরে বসে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ করতে পারে। এছাড়া অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ই-পাসপোর্ট আবেদন এবং দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল জানার মতো সুবিধাগুলোও নাগরিকরা ভোগ করতে পারে। ২৪/৭ সেবা প্রাপ্তির সুযোগ থাকায় নাগরিকরা তাদের সুবিধামতো সময়ে সেবা নিতে পারে।
অতএব বলা যায়, ই-গভর্ন্যান্স ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারি সেবাপ্রাপ্তি সহজ ও হয়রানিমুক্ত করেছে।
উদ্দীপকে ই-গভর্ন্যান্সের ব্যয়বহুল হওয়ার যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তা মূলত এই ব্যবস্থার আর্থিক ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাকে নির্দেশ করে।
ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হলো কারিগরি সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনীহা। তাই ই-গভর্ন্যান্সের জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সব অঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত নয়। গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভার ই-সেবা প্রসারে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষের মধ্যে ডিজিটাল নিরক্ষরতা রয়েছে, যার ফলে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ নয়। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হরণ হওয়ার ভয়ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। পাশাপাশি, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এবং দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অভ্যন্ত কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের প্রতি অনীহাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া অনেকে মনে করেন ডিজিটাল ব্যবস্থায় তাদের ক্ষমতা বা প্রভাব কমে
যেতে পারে। আবার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের অভাব এবং পুরনো আইন ও বিধিমালার কারণেও ই-গভর্ন্যান্সের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং, ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিকতা ও আইনি কাঠামোর পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।