| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘“যত দিন রবে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“যত দিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
"সিরাজের পতন কে না চায়" - সংলাপটি ঘসেটি বেগমের।
সিরাজের বাহিনীর তীব্র আক্রমণে ইংরেজরা একে একে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তাদের প্রতি ব্যঙ্গ করে। উমিচাঁদ এ উক্তিটি করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ও কাশিমবাজার কুঠিতে ইংরেজরা গোপনে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলে নবাব সিরাজ তাদের দুর্গ আক্রমণ করেন। নবাবের সৈন্যদলের আক্রমণের মুখে যখন ইংরেজ সৈন্যরা আর টিকতে পারছিলনা, তখন তারা একে একে দুর্গ ছেড়ে পালাতে থাকে। এমনকি গভর্নর রজার ড্রেক আর ক্যাপ্টেন ক্লেটনও দুর্গ ছেড়ে নৌকা করে পালিয়ে যান। তাঁদের এ কাপুরুষতাকে কটাক্ষ করে উমিচাঁদ হলওয়েলকে লক্ষ করে উক্তিটি করেন।
উদ্দীপকের শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ”।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রধান চরিত্র। পিতা জয়নুদ্দিন ও মাতা আমিনা বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ১৭৩৩ সালে জন্ম ও ১৭৫৬ সালে সিংহাসেন বসেন। তিনি ছিলেন তেজস্বী, নির্ভীক, সত্যাশ্রয়ী, বীরযোদ্ধা, কর্তব্যপরায়ণ প্রজাপালক দেশপ্রেমিক। নবাবের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তাঁকে ঘরে ও বাইরে নানাভাবে শত্রুর মুখোমুখি হতে হয়। ইংরেজনে অত্যাচার, অনাচার ও অনিয়মগুলোর মূলোচ্ছেদ করার জন্য তিনি কলকাতা অভিযান করে ইংরেজদের দুর্গ ধ্বংস করেন এবং গভনর ডেকের বাড়ি নিশ্চিহ্ন করে তাদের বিতাড়িত করেন। বড় খালা ঘসেটি বেগমকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে এসে নজরবন্দি করে রাখেন মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ও উমিচাঁদকে দেশরক্ষার স্বার্থে উজ্জীবিত করার জন্য পবিত্র কোরান ও তুলসী-গঙ্গাজল ছুঁইয়ে শব্দ উমিচাঁদ : 'সিরাজউদ্দৌল ইংরেজদের ব্যবসায়ে দান যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে করান। তিনি ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে কড়া জবাবদিহিতার আওতায় আনেন এবং সমস্ত অত্যাচার-অনাচার বন্ধ করার হুম দেন। তিনি রাজ্য রক্ষা ও রাজ্যের কল্যাণের জন্য কাজ করেন।
১৭৫৬ সালে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। শওকতজঙ্গের বিশাল হারেম তাকে পালন করতে হয়। সিরাজকে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে আনা হলে মোহাম্মদী বেগ তাঁকে ১০ হাজার টাকা চুক্তির বিনিময়ে জাফরগঞ্জের কয়েদখানায় হত্যা করে।
হ্যাঁ উদ্দীপকটি সিরাজদৌলা নাটকের আংশিক ভাব বহন করে।
উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ প্রেম ফুটে উঠেছে এবং নাটকের সিরাজউদ্দৌলা তে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর দেশপ্রেম ও ফুটে উঠেছে সে তার দেশের জন্য অনেক কল্যাণকর কাজ করেছিল। দেশের মানুষের বিভিন্ন কল্যাণের কাজ করেছিল সে। বিভিন্ন জায়গার উন্নয়ন করা দুর্বল অসহায় মানুষদের সাহায্য করে এগুলো ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্বভাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী হতো আমরা বুঝতে পারি যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অনেক নরম মনের মানুষ এবং তেজস্বী এবং সাহসী আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ মানুষ। তিনি দেশের জন্য আমরণ লড়াই করে গিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি যেমন নবাব সিরাজুদুল্লাহ তার রাজ্যের জন্য আমরণ লড়াই করে গিয়েছিল মৃত্যু শেষ পর্যন্ত তিনি লড়াই ছাড়েননি।
কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর কাহিনী একটু ভিন্ন,
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে তার আপন আত্মীয় তার খালা ঘষিটি বেগম তার ভাই মির্জাফর আমি চাঁদ মোহাম্মদী বেগ ইত্যাদি আরও ব্যক্তিবর্গ মানুষ ষড়যন্ত্র করে তার পতন ঘটায়। তাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে দেয় এমনকি তার নির্মম মৃত্যু করে। তার আত্মীয়-স্বজন তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথেও দেশের একদল ব্যক্তিবর্গ যারা তার বিরুদ্ধে ছিল দেশের বিরুদ্ধে ছিল তারা বঙ্গবন্ধু সহ তার সহ পরিবারকে চক্রান্ত করে হত্যা করে। কিন্তু উদ্দীপকে সে প্রসঙ্গে কোন কিছু ফুটে ওঠেনি। শুধু তার দেশপ্রেমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আসা তার দেশপ্রেম এবং সিংহাসন থেকে পতন এবং তার নিকটস্থ আত্মীয়দের বিশেষ ঘাতকতার দিক কি প্রকাশ পেয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা এ নাটকের আংশিক অংশ প্রকাশ পেয়েছে।