| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জোয়ারভাটাক-প্রতিদিন একই স্থানে…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

জোয়ারভাটা
ক-প্রতিদিন একই স্থানে ৪ বার সংঘটিত হয়।
খ-প্রতিমাসে ৪ বার সংঘটিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির ফুলে ওঠা ও নিচে নেমে যাওয়াকে জোয়ারভাটা বলে।
মহাকর্ষ শক্তি জোয়ারভাটা সৃষ্টির প্রধান কারণ। মহাকাশের পদার্থসমূহের পারস্পরিক আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে। বড় পদার্থের আকর্ষণ ক্ষমতা ছোট পদার্থ অপেক্ষা বেশি। আবার, দূরের বস্তুর আকর্ষণ ক্ষমতা নিকটের বস্তু অপেক্ষা কম হয়ে থাকে। চাঁদ অপেক্ষা সূর্য অনেক বড় হলেও পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় সূর্য অনেক দূরে অবস্থিত। এজন্য পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা অনেক বেশি। সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণী শক্তির প্রভাবে জোয়ারভাটা সংঘটিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'খ' বলতে-মুখ্য জোয়ার বা ভরা কটাল এবং মরা কটাল উভয় প্রকার জোয়ারভাটার কথা বলা হয়েছে। উক্ত জোয়ারভাটার ধরন বিশ্লেষণ করা হলো-
পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে বলে সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। ফলে এ দু সময়ে পানি খুব বেশি ফুলে উঠে। একে ভরা কটাল বা তেজ কটাল বলে। যেমন- অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে এর সাথে সমসূত্রে থাকে। এর ফলে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি একই দিক হতে একই সঙ্গে কার্যকরী হয়। সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণের কম হলেও এ সময় উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ আরও প্রবল হয়। অতএব, ঐ দিন চন্দ্র ও সূর্যের দিকে পূর্ণিমার দিন অপেক্ষাও পানি বেশি ফুলে ওঠে অর্থাৎ জোয়ার বেশি হয়। এ জাতীয় জোয়ার হলো ভরা জোয়ার। প্রতিমাসে এ ধরনের ভরা জোয়ার দুই বার সংঘটিত হয়।
অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে না থেকে উভয়ই পৃথিবীর একসমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। ঐ দিন তারা পৃথিবীকে আড়াআড়িভাবে আকর্ষণ করে বলে আকর্ষণের বেগ অনেক কম হয়। তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। তাই ঐ সময় চন্দ্রের দিকে জোয়ার ও সূর্যের দিকে ভাটা হয়। সূর্যের বিরোধিতার কারণে চন্দ্রের দিকে পানি বেশি স্ফীত হতে পারে না বলে এ জাতীয় জোয়ার হলো মরা জোয়ার বা মরা কটাল।
সুতরাং বলা যায় যে, প্রতিমাসে দু'বার করে ভরা কটাল ও মরা কটাল অর্থাৎ মোট ৪ বার জোয়ারভাটা সংঘটিত হয়।