| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জসিমের দেশের এক…’ দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, ইতিহাস, ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি)

জসিমের দেশের এক সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে এক মোহিত ভাষণ দেয়। সংকট মোকাবিলায় জাতিকে প্রস্তুত থাকতে বলে। তার নির্দেশনা মোতাবেক জাতি শত্রু মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা অর্জন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অখন্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করা হয়। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র পক্ষ যে মামলা দায়ের করে তাকেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকে ৭ মার্চের ভাষণের কথা বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারের প্রতি চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো-
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
এর বাইরে আরও বেশকিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্থাপন করা হয়। তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। ঘোষণায় তিনি বলেন, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশও দেন এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানান। তার এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ৭ মার্চের ঘটনার প্রভাব ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালের মার্চের অগ্নিগর্ভ সময়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্মারক। ৭ মার্চের বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু একদিকে পাকিস্তানের শোষণ, অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমি, কর্মসূচি, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে তাদের মোকাবিলার নির্দেশ দেন। এ ভাষণে তিনি স্বাধীনতার কথা এমনভাবে উচ্চারণ করলেন যাতে ঘোষণার কিছু বাকি রইল না, অন্যদিকে শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা উত্থাপনের অভিযোগ গ্রহণও সহজ ছিল না। উদ্দীপকে জসিমের দেশে এক মোহিত বঙ্গবন্ধুর অনুরূপ ভাষণ দেন। তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক জাতি শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিনিয়ে আনে লাল সবুজের পতাকা। যা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আলোকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ভাষণের প্রভাব ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।