| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘যুবকেরা পাগল, বাবুদের…’ এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

যুবকেরা পাগল, বাবুদের মতো সহজেই যুবক প্রাণে আগুন ধরে। তরবারি দেখে, কারাগারে ফাঁসিতে কিছুতেই তার দর্পিত প্রাণ কাবু হয় না। এদের মধ্যে স্থিরতা, ধীরতা, গাম্ভীর্য, ধর্মভয়, বিনয় জ্ঞান বলতে কিছু নেই। ওরা সত্যিই পাগল, বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবন্দ শক্তি বলা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
বনের পাখির মতো পান করা কবির স্বভাব।
➤ তরুণ হচ্ছে তারাই যাদের জীবনে আছে গতি ও কর্মস্পৃহা, দুর্বার প্রাণশক্তি নিয়ে যারা এগিয়ে যায় তারাই তরুণ।
➤ কবিও চান এমনি একটি গতিময় যৌবনধর্মে দীক্ষিত কাঙ্ক্ষিত সমাজ, যে সমাজের তরুণেরা অজেয়কে জয় করার আকাঙ্ক্ষায় এগিয়ে যাবে। অজানাকে নিজের করায়ত্ত করবে। মানবসেবা দিয়ে তার চারপাশের জীবন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলবে। এ ধর্ম সেই যৌবনের এবং এ বাসনা যারা কামনা করেন তারাই তরুণ- কবি এমনই কামনা করেন বিধায় তিনি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
সারকথা: তরুণের জীবনে থাকে গতি ও কর্মস্পৃহা। তাই কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
➤ উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবনের গতিময়তার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➤ যৌবন হলো মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় মানুষের ভিতরে কোনো ভয় বা জড়তা কাজ করে না। যৌবনের ধর্ম হলো দুর্বার গতিতে ছুটে চলা। এই সময় কোনো বাধা মানতে নারাজ। যৌবনে কোনো শঠতা, ভীরুতা, কুসংস্কার, পশ্চাৎপদতা থাকে না। মৃত্যুকে পরোয়া না করে ছুটে চলার নামই যৌবন।
➤ উদ্দীপকের যুবকেরা গতিময় যৌবনের ধারক। বারুদের মতোই লুপ্তপ্রাণ জাগ্রত বাসনা তাদের। অসত্য, অন্যায়কে রুখতে তারা কারাগার-ফাঁসিকে অবজ্ঞা করে। জীবনের বাধা অতিক্রম করতে তাদের হাতের উত্থত তরবারি বের হয়। ভীরুতা, স্থিরতা তাদের চলার পথকে স্পর্শ করতে পারে না। অযাচিত বিনয় তাদের মধ্যে নেই। ধর্মভয়, লোকভয়কে তারা তুচ্ছ মনে করেই সমাজ নির্মাণের পথে এগিয়ে যায়। এই যুবকদের বলা হয়েছে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবদ্ধ শক্তি। যৌবনের গান প্রবন্ধে লেখক যৌবনের দুর্বার গতির কথা বলেছেন। জয়গান করেছেন যুবকদের। আলোচ্য প্রবন্ধে যে অপরাজেয় ভরুণের গতিময়তা দেখানো হয়েছে, উদ্দীপকের যুবকদের মধ্যেও সেই অপ্রতিরোধ্য গতির যথাযথ রূপটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: যৌবনের গতিময়তার দিকটিই মূলত অনুচ্ছেদে প্রকাশ পেয়েছে। লেখক অপ্রতিরোধ্য যৌবনের গতির জয়গান করেছেন।
➤ উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিলিত হয়েছে, পুরো বিষয় নয়। মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ তারুণ্যের দুর্বার গতিময়তা মূলত অফুরান প্রাণশক্তি, অজয়কে জয় করার দৃঢ়চেতনা, জীবনের ভালো অর্জনকে বরণ করার পথে সকল বাধা সহ্য করা। তারা জীবনে শুধু এগিয়ে চলতেই জানে। তাদের চলার পথে না থাকে পিছুটান, না থাকে ভয়।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যে যুবকদের কথা বলা হয়েছে তারা চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর। কোনো রকম বয়সের ফ্রেমে তাদেরকে বাঁধা হয়নি। বার্ধক্যের মোড়কের মধ্যেও সেখানে প্রাবন্ধিক লক্ষ করেছেন মেঘলুপ্ত সূর্যের প্রদীপ্ত তেজ। আবার যুবকের শরীর কাঠামোর আড়ালে বার্ধক্যের কঙ্কালসার ভাবনাও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। যৌবনের দুটি রূপ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে। এর একটি রূপ দুরন্ত এবং অপর রূপটি মাতৃস্নেহের মতোই কোমল এবং মমতাময়। দুরন্ত রূপ লেখক প্রত্যক্ষ করেছেন দুর্জয়কে জয় করার সংগ্রামী অভিপ্রায়ে আর মাতৃরূপকে প্রত্যক্ষ করেছেন নিঃস্বার্থ সেবার মধ্যে।
➤ উদ্দীপকের যুবকের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যৌবনের শক্তি লুকিয়ে আছে। তাদের কর্মময় জীবনে যৌবনের শক্তিমত্ততা ও গতিময়তা আছে। কিন্তু তাদের জীবনে যৌবনের গতিময় জীবনের বাস্তবায়ন ঘটেনি। পাশাপাশি উদ্দীপকের যুবকের যৌবনের মাতৃরূপের কোনো নমুনা প্রদর্শন করতে পারেনি। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে শুধু যৌবনের গতিময়তা আছে, মাতৃরূপ অর্থাৎ কোমল রূপের প্রকাশ নেই। তাই আলোচ্য প্রবন্দের আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।