যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অর্নির। সে বাবার কাছে বাবার ছেলেবেলা ও গ্রামের গল্প শুনেছে। তার বাবার বিলদুয়ারিয়া গ্রামের পাশের যমুনা নদীর কথা শুনেছে। বাবার গ্রামের বিরাট মাঠ, নিবিড় বৃক্ষরাজি, বিস্তীর্ণ হলুদ সরিযাখেত, নদীতে দুরন্ত ছেলেমেয়ের লাফানো-ঝাঁপানো সে কল্পনায় দেখতে পায়। শহর থেকে গ্রামে যে সরু রাস্তাটি ফসলের খেতের বুক চিড়ে ঢুকেছে সেটিও কল্পনায় দেখে সে। দাদা-দাদি বেঁচে না থাকায় দীর্ঘদিন পর তারা বাংলাদেশে আসে। এসে তাদের খুব মন খারাপ হয়। বাড়িটি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। সবকিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামের সেই চেহারাটি আর নেই। তবে দুরন্ত ছেলেমেয়েদের নদীতে লাফালাফি, ঝাঁপাঝাঁপি দেখে অর্নি অভিভূত হয়ে গেল। সেও ওদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইল।
জসীমউদ্দীন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ 'একুশে পদক' লাভ করেন
লেখক পল্লিবালা যে ঘাটে কলসি ভরবে সেই ঘাটের এক ধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি যে পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন তা অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সেখানে হাজার রঙের ফুল ফোটে। লেখক গাছের শাখা দুলিয়ে ফুল পেড়ে তা দিয়ে মালা গেঁথে গাঁয়ের বিভোল পল্লিবালা যে ঘাটে জল ভরতে আসে সেখানে সেই মালা রেখে আসবেন।
গ্রামের অকৃত্রিম রূপ ও গ্রামীণ নানা অনুষঙ্গের উপস্থিতির সঙ্গে উদ্দীপক ও 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবির অন্তর ভরে ওঠে গ্রামীণ প্রকৃতির আকর্ষণে। তিনি নগরের কোলাহল ছেড়ে শান্ত গ্রামের বুকে ফিরে যেতে চান, যেখানে দিঘির ঢেউ আর বাতাসের সুর মিশে থাকে হৃদয়ের গানে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় পল্লিমায়ের আদরের সন্তান পল্লি-দুলাল গ্রামের অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছে। কবি সেই পল্লি-দুলালের পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেই পল্লিগ্রামকে ঘিরে রেখেছে প্রকৃতি। সেখানে পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ, বেতকেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। সেখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ পথ আঁকাবাঁকা। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। গ্রামীণ চঞ্চল ছেলেদের সঙ্গে কবি খেলা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। শৈশবের সেই দুরন্তপনা ও গ্রামের অফুরন্ত সৌন্দর্য কবিতায় ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা অর্নি তার বাবার কাছে বাবার ছেলেবেলা ও গ্রামের গল্প শুনেছে। গ্রামের পাশে যমুনা নদী। সেখানে বিরাট মাঠ, নিবিড় বৃক্ষরাজি, বিস্তীর্ণ হলুদ সরিষা খেত, নদীতে দুরন্ত ছেলেমেয়ের লাফানো, ঝাঁপানো- এ সব চিত্রই কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে প্রাকৃতিক অনষঙ্গগুলো সাদশ্যপূর্ণ।
মূলভাবের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার ভাবকে আংশিক ধারণ করেছে, পুরোটা নয়।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় বাংলাদেশের পল্লিজীবনের সৌন্দর্য চিত্রিত হয়েছে অনবদ্যভাবে। ধানখেতের সরু পথ, কদমকলির সুবাস, পাখির ডাক- সব মিলিয়ে কবি যেন এক জীবন্ত পল্লিচিত্র এঁকেছেন। এটি প্রকৃতি ও জীবনের মিলনের কবিতা।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামের বিস্তীর্ণ অনিন্দ্য সৌন্দর্যকে নানা অনুষঙ্গ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে তিনি পল্লির রূপের সূক্ষ্ম চিত্র দেখিয়েছেন। কবি যে আদরের দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন সেখানে অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান। কবি বর্ণনা করেছেন গ্রামের অফুরন্ত সৌন্দর্যের অনুষঙ্গসমূহ। গ্রামের বনের শীর্ষে মুক্ত আকাশ, দিক-হারা মাঠ, বনে ডাহুকের ডাক, মেঠোপথ সবই সৌন্দর্যের আধার। কবি সেখানে গিয়ে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে খেলতে চান। পাখিদের সঙ্গে ডাকতে চান। অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হতে চান। উদ্দীপকে দেখা যায়, অর্নি তার বাবার শৈশবের দুরন্ত স্মৃতির গল্প শোনে, সেখানে গ্রামের বিস্তীর্ণ রূপ সম্বন্ধে বাবার কাছে জানতে পারে। কিন্তু দাদা-দাদি বেঁচে না থাকায় দীর্ঘদিন পর দেশে এসে বাবার স্মৃতির সেই গ্রামের সঙ্গে বর্তমান গ্রামকে মেলাতে পারে না। গ্রামের প্রায় সবকিছুই বিলীন হয়ে গেছে। তবে দুরন্ত ছেলেমেয়েদের নদীতে লাফালাফি-ঝাঁপাঝাঁপি দেখে সেও তাদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইল।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় পল্লিগ্রামের অকৃত্রিম রূপ বিদ্যমান। সেখানে গ্রামের পরিবর্তন বা বিলীন হয়ে যাওয়ার কোনো বিষয় নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি গ্রামের সৌন্দর্যকে সুচারুরূপে সম্পূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি, বরং বর্ণনানুযায়ী তা হচ্ছে কবিতার আংশিক রূপ।
